প্রিন্সেস ডায়ানার বহুল আলোচিত ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ বা ‘প্রতিশোধের পোশাক’ এবার নিলামে উঠছে। ১৯৯৪ সালে তাঁর তৎকালীন স্বামী প্রিন্স চার্লসের পরকীয়ার কথা প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টা পর লন্ডনের এক অনুষ্ঠানে কালো সিল্কের কাঁধখোলা পোশাকটি পরে হাজির হয়েছিলেন ডায়ানা। তার সেই উপস্থিতি পরে জনপ্রিয় সংস্কৃতির অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সোথবিজ জানিয়েছে, আগামী ৯ ডিসেম্বর পোশাকটি নিলামে তোলা হবে। এর দাম সর্বোচ্চ ২ লাখ ২০ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৩ লাখ ডলার) উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৯৯৭ সালের পর এবারই প্রথম পোশাকটি নিলামে উঠছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ সালের সেই রাতে লন্ডনের সার্পেন্টাইন গ্যালারির একটি তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন ডায়ানা। একই দিন প্রচারিত একটি তথ্যচিত্রে তৎকালীন প্রিন্স অব ওয়েলস, বর্তমানে রাজা তৃতীয় চার্লস, স্বীকার করেন যে তিনি ডায়ানার প্রতি অবিশ্বস্ত ছিলেন।
সাক্ষাৎকারটির বিষয়বস্তু কয়েক দিন আগেই ফাঁস হওয়ায়, ওই অনুষ্ঠানে ডায়ানার উপস্থিতিকে অনেকেই তার প্রকাশ্য জবাব হিসেবে দেখেছিলেন।
ডায়ানার তৎকালীন স্টাইলিস্ট আনা হার্ভের ভাষ্য, সেদিন তিনি “দেখতে যেন এক মিলিয়ন ডলারের মতো” আকর্ষণীয় হতে চেয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে শেষ মুহূর্তে পোশাকও বদলান ডায়ানা।
ভ্যালেন্টিনোর একটি গাউন বাদ দিয়ে তিনি বেছে নেন গ্রিক ডিজাইনার ক্রিস্টিনা স্টাম্বোলিয়ানের তৈরি কাঁধখোলা পোশাকটি। অসমান নিচের অংশ ও শিফনের ঝুল থাকা পোশাকটির সঙ্গে ডায়ানা পরেছিলেন রাজকীয় নেকলেস, কালো ক্লাচ ও হাই হিল।
সোথবিজের গ্লোবাল হেড অব হ্যান্ডব্যাগস অ্যান্ড ফ্যাশন মর্গান হালিমি বলেন, ডায়ানা বুঝতেন, ফ্যাশনও একটি শক্তিশালী ভাষা। তার মতে, এমন এক সময়ে নিজের পোশাকের মাধ্যমে ডায়ানা নিজের গল্পের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, যখন অন্যরা তার হয়ে সেই গল্প বলছিল।
বিবিসি বলছে, নিলামের আগে পোশাকটি বিশ্বের কয়েকটি শহরে প্রদর্শন করা হবে। ১৮ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এটি থাকবে সোথবিজের লন্ডন শোরুমে। এরপর অক্টোবরের শুরুতে হংকং, নভেম্বরের শুরুতে জেনেভা হয়ে নিউইয়র্কে নেয়া হবে। সেখানেই অনুষ্ঠিত হবে নিলাম।
