হুতিদের ঠেকাতে সৌদির পাশে যুক্তরাষ্ট্র, জোরদার গোয়েন্দা সহায়তা

সিএনএন এক্সক্লুসিভ

হুতিদের ঠেকাতে সৌদির পাশে যুক্তরাষ্ট্র, জোরদার গোয়েন্দা সহায়তা

ফন্ট সাইজ:

ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা দিতে দেশটিতে ১০০ জনের বেশি মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা অবস্থান করছেন। এ কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্র সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে। এনিয়ে মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, সৌদিতে থাকা মার্কিন সেনার সংখ্যা অন্তত ২০০ জন।
ইয়েমেনে হুতিদের হামলা ও অগ্রযাত্রা বৃদ্ধির মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একটি যৌথ বাহিনী কমান্ড গঠন করা হয়েছে। এর অধীনে মার্কিন সামরিক সদস্যরা সৌদি বাহিনীকে সহায়তা করছেন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদিকে মার্কিন সহায়তার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ এবং লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, সৌদি বাহিনীকে এমন একটি টার্গেটিং ব্যবস্থা ব্যবহারে সহায়তা করা হচ্ছে, যা পেন্টাগনের ‘ম্যাভেন’ ব্যবস্থার মতো। পাশাপাশি হুতিদের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ‘জিওস্পেশাল’ বা ভৌগোলিক তথ্যভিত্তিক লক্ষ্য নির্ধারণেও সহায়তা দিচ্ছে ওয়াশিংটন।

তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সৌদি হামলায় অংশ নিচ্ছে না। সৌদি যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি সরবরাহ বা অন্যান্য অপারেশনাল সহায়তাও এবার দেয়া হচ্ছে না। মূলত গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক পরিকল্পনায় সহযোগিতার মধ্যেই মার্কিন ভূমিকা সীমিত রাখা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনে হুতিদের তৎপরতা বেড়েছে। সেই সঙ্গে হুতিরা সৌদিকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে এরইমধ্যে বৃহস্পতিবার তারা লোহিত সাগরের একটি কৌশলগত বন্দর দখল করেছে। এর ফলে লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে হুমকি বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, ইরান হুতিদের মাধ্যমে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরদার করতে পারে এবং সংঘাতটি নতুন একটি ফ্রন্টে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

২০২২ সালে হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দেশটি এখনো কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ইয়েমেনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) শত শত কর্মকর্তা হুতিদের সঙ্গে কাজ করছেন। তাদের লক্ষ্য বাব আল-মান্দাব প্রণালি বন্ধ করে দেয়া হতে পারে।

এর আগে সিএনএন জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরান হুতিদের দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করে দেয়ার পরিকল্পনা করছিল।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলতি সপ্তাহে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় সাম্প্রতিক হুতি হামলার পেছনে ইরানের ভূমিকা রয়েছে।

হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা নিয়ে ওয়াশিংটনের ভেতরে সতর্কতা রয়েছে। ওবামা ও ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সৌদি আরবকে মার্কিন সামরিক সহায়তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।

সৌদি অভিযানের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়লে বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়তে পারে- এমন আশঙ্কাও রয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে। অভিযান সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন সূত্রের মন্তব্য, ‘এটা আর আগের সময় নয়।’