বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ফুটবলের ভাবমূর্তি ও ঐক্য মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুলেছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। সাম্প্রতিক নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জেরে ইনফান্তিনোর পুনর্র্নিবাচনের পক্ষে দেয়া সমর্থন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে ফ্রান্স।
প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এফএফএফ সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সম্প্রতি ফিফার কার্যনির্বাহী কমিটির এক বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ফিলিপ দিয়ালো বলেন, ‘জুলাই মাস থেকেই এমন কিছু পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যা আমাদের সমর্থন বজায় রাখার অনুকূলে ছিল না। ইনফান্তিনোর নানা উদ্যোগ ফুটবলের ভাবমূর্তি ও ঐক্যের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। ফলস্বরূপ, আমরা মনে করি পারস্পরিক আস্থার জায়গাটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে।’
মূলত বিশ্বকাপের সময় কিছু বিতর্কিত ঘটনা এবং ইনফান্তিনোর একতরফা বাণিজ্যিক পরিকল্পনা ফরাসিদের ক্ষুব্ধ করেছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের তদবিরে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ঘটনা ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। এছাড়া, ফুটবলের ঐতিহ্য ও স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে ফিফার বাণিজ্যিক অধিকার বিক্রির পরিকল্পনা বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। যদিও পরবর্তীতে তীব্র বিরোধিতার মুখে সেই বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। তবে ফরাসিদের আস্থার সংকট কাটেনি।
ফরাসি ফুটবলের শীর্ষকর্তা আরও বলেন, ‘ফ্রান্স ফিফার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল পরাশক্তি হিসেবে বিশ্ব ফুটবলের সঠিক পথ নির্ধারণে কথা বলার ঐতিহাসিক ও ক্রীড়াভিত্তিক যৌক্তিকতা আমাদের রয়েছে। ফুটবলের সাধারণ স্বার্থের পরিপন্থী কোনো নীতির সঙ্গে আমরা আপস করবো না।’
আসন্ন মার্চ মাসে ফিফার পরবর্তী কংগ্রেসে নতুন সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে আগামী ১৮ই নভেম্বরের মধ্যে ইউরোপিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (উয়েফা) সঙ্গে মিলে একজন বিকল্প প্রার্থী খোঁজার প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে ফ্রান্স। ফিফায় সুশাসন ও স্বচ্ছতা ফেরাতে ফিফার সদ্য বরখাস্ত হওয়া প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুরসহ ফুটবল বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেবে এফএফএফ।
বিশ্লেষকদের মতে, ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে ফ্রান্সের এই প্রকাশ্য বিদ্রোহ বিশ্ব ফুটবলের ক্ষমতার ভারসাম্যে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
