পাকিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে অধ্যয়নরত ২০০-এর বেশি আফগান শিক্ষার্থীকে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে পাক মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (পিএমডিসি)। তবে লাহোর হাইকোর্ট শুক্রবার ওই নির্দেশের বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। ফলে আপাতত এসব আফগান শিক্ষার্থী ক্লাস, পরীক্ষা ও হোস্টেলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন।
গত ১ সেপ্টেম্বর পিএমডিসি পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজগুলোকে আফগান শিক্ষার্থীদের ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে চলতি শিক্ষাবর্ষে আফগান নাগরিকদের নতুন ভর্তি, স্থানান্তর ও মাইগ্রেশন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পিএমডিসির দাবি, পাকিস্তানে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংস্থাটির কাছে নিবন্ধিত থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বর্তমানে মাত্র ২২ জন আফগান শিক্ষার্থী পিএমডিসিতে নিবন্ধিত। তাদের মধ্যে ১৪ জন ইতোমধ্যে স্নাতক হয়েছেন এবং আটজন স্নাতক হওয়ার পথে।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের বেশির ভাগই পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন (এইচইসি) ও কাবুলে পাকিস্তানি দূতাবাসের মাধ্যমে ‘আল্লামা ইকবাল স্কলারশিপ’ নিয়ে পাকিস্তানে পড়তে এসেছেন। পিএমডিসিতে আলাদাভাবে নিবন্ধন করতে হবে- এমন তথ্য তাদের কখনো জানানো হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই নিবন্ধন-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছে বলে তারা দাবি করেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দেশ জারির পর পাকিস্তানের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে আফগান শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ছাড়ার নোটিশ দেয়া হয়। কোথাও কোথাও মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কক্ষ খালি করতে বলা হয়। অনেক শিক্ষার্থীকে ক্লাস ও হাসপাতালের শিফটেও অংশ নিতে দেয়া হয়নি।
লাহোর হাইকোর্টে করা আবেদনে আফগান শিক্ষার্থীরা বলেন, কোনো বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়েই তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এতে তাদের শিক্ষা, জীবন ও মর্যাদার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। আদালতে বিচারপতি খালিদ ইসহাক মন্তব্য করেন, গতকাল পর্যন্ত তারা ছিল প্রিয় সন্তান। আজ নীতি বদলে গেছে।
আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। এর আগে পিএমডিসি, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটি বলেছে, তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানের বিরোধের কারণে আফগান শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেয়া হচ্ছে এবং এর ফলে বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।
পাকিস্তানের সাবেক দুই আফগানিস্তানবিষয়ক কূটনীতিকও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা শিক্ষার্থীদের অন্তত ডিগ্রি শেষ করার সুযোগ দেয়ার দাবি করেছেন।
বর্তমানে দেশটিতে আফগান নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। কারণ তালেবান সরকারের উচ্চশিক্ষা নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশে ফিরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
লাহোরের মেডিকেল শিক্ষার্থী আলিশবা বলেন, আমরা কোনো ভুল করিনি। আপনারাই যদি আমাদের এখানে নিয়ে এসে আসন দেন, তাহলে আমাদের ডিগ্রি শেষ করতে দিন।
পাকিস্তানের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার আফগান শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি পাকিস্তান সরকারের বৃত্তির আওতায় রয়েছেন।
