টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি অনীহা ও অপরিপক্ব সিদ্ধান্তের কারণে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কড়া সমালোচনা করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেন। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের মাঝপথ থেকে সরাসরি ইংল্যান্ডের কঠিন কন্ডিশনে টেস্ট খেলতে নামায় ওপেনার সাইম আইয়ুবের বাজে পারফরম্যান্সের জন্য নির্বাচকদেরই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি।
চলমান সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে গোল্ডেন ডাক খাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও কোনো রান না করেই আউট হন সাইম আইয়ুব। ইংল্যান্ডের পেসার ওলি রবিনসনের তোপের মুখে পড়ে দুই ইনিংস মিলিয়ে মাত্র ১১ বল মোকাবেলা করে জোড়া শূন্য রান করেন এই তরুণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগ ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (সিপিএল) খেলে সরাসরি টেস্ট দলের স্কোয়াডে যোগ দেয়া সাইমের এই ব্যর্থতার জন্য পিসিবিকেই দায়ী করেছেন হুসেন।
স্কাই স্পোর্টসের এক অনুষ্ঠানে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাসের বলেন, ‘সত্যি বলতে কি, ওর তো দলেই থাকা উচিত ছিল না। ও সিপিএল খেলে এসেছে এবং বেশ কিছুদিন ধরে কোনো প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটই খেলেনি।’
ইংল্যান্ডের কঠিন পিচে লাল বলের অভিজ্ঞতা ছাড়া কোনো খেলোয়াড়কে আচমকা মাঠে নামিয়ে দেয়াকে টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি চরম অসম্মান বলে মনে করেন এই ইংলিশ কিংবদন্তি। তিনি আরও বলেন, ‘অন্য ফরম্যাট ও ভিনদেশি কন্ডিশন থেকে কাউকে সোজা উড়িয়ে এনে মনে করা হলো যে ও ইংল্যান্ডের মাটিতে, বিশেষ করে ওলি রবিনসন ও ইংলিশ পেস আক্রমণ সামলে ডিউক বলের বিপক্ষে দিব্যি টিকে যাবে-এমন ভাবনাই বোকামি। এটা টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি এক ধরণের অসম্মান ও অবহেলা।’
ব্যাটসম্যান হিসেবে সাইমের সমালোচনা থাকলেও মূল দায়টা পিসিবির অপরিপক্ব সিদ্ধান্তেরই বলে মনে করেন নাসের। অতীতে ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটার বীরেন্দ্র শেবাগের ব্যর্থতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘আপনাদের কি মনে আছে, অতীতে এই মাঠেই ভারতও এমন কাণ্ড করেছিল? তারা বীরেন্দ্র শেবাগের মতো কিংবদন্তিকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই সরাসরি উড়িয়ে এনেছিল, আর শেবাগও জোড়া শূন্য রান করেছিলেন। শেবাগ তো সাইমের চেয়ে ঢের বেশি অভিজ্ঞ ও সেরা মানের খেলোয়াড় ছিলেন!’
নাসের হুসেইনের মতে, টেস্ট ক্রিকেটের মতো কঠিন ফরম্যাটে ওপেনিংয়ে নামার আগে উপযুক্ত প্রথম শ্রেণির প্রস্তুতি ও ঘরোয়া ক্রিকেটের কন্ডিশন মানিয়ে নেয়ার সুযোগ দেয়া উচিত। কেবল ভাগ্য বা অন্ধবিশ্বাসের ওপর ভর করে কোনো তরুণ ক্রিকেটারকে এমন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দেয়া পাকিস্তান ক্রিকেটের অপেশাদার মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।
