লোহিত সাগর তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখল করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। ইরানের সরবরাহকৃত অস্ত্র, ড্রোন এবং ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) কমান্ডারদের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় অতি দ্রুততায় তারা এটি দখল করতে সক্ষম হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশ সৌদি আরবের ওপর নতুন করে চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে তেহরানের মদতে বা চোখের পলকে এই হামলা চালানো হয়। রয়টার্সের বরাতে এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে এই আকস্মিক অগ্রগতি ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটিকে লোহিত সাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশের ওপর নিয়ন্ত্রণ এনে দিয়েছে। এলাকাটি বৈশ্বিক জ্বালানি ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট বাব আল-মান্দেব প্রণালির খুব কাছাকাছি অবস্থিত। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে ইরান হুতিদের সৌদি আরবের ওপর হামলা জোরদার করার নির্দেশ দেয়। এর জন্য অতিরিক্ত অর্থ, অস্ত্র ও জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয় তেহরান। ইয়েমেনের সামরিক সূত্রগুলো জানায়, আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডার আবদোলরেজা শাহলাইয়ের তত্ত্বাবধানে রকেট নিক্ষেপের মাধ্যমে এই অভিযান শুরু হয়েছিল।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইয়েমেন বিশ্লেষক আহমেদ নাগি জানান, সরাসরি ইরান থেকে বা চোরাচালানের মাধ্যমে পাওয়া নতুন অস্ত্র, বিশেষ করে ড্রোন এই দ্রুতগতির দখলাভিযানে মূল ভূমিকা রেখেছে। মোখা বন্দরটি বাব আল-মান্দেব প্রণালি থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় এই অঞ্চলে বৈশ্বিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর হুমকি দেয়ার ক্ষেত্রে হুতিরা এখন আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। হুতিরা শুধু মোখা দখল করেই থেমে থাকবে নাকি তারা আরো সামনে এগুবে তা নিয়ে জল্পনা চলছে।
বাব আল মান্দেবে থাকা গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ দখল করতে পারে হুতিরা। এতে তারা বাব আল মান্দেব প্রণালির পাশাপাশি সুয়েজ খাল দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর এটি হুতিদের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ লাভের ঘটনা। যা ইয়েমেনে ফের বড় ধরনের সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির শঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলারে ঠেকেছে।
