রংপুরে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য ভোগান্তিতে নগরবাসী

রংপুরে অটোরিকশার দৌরাত্ম্য ভোগান্তিতে নগরবাসী

ফন্ট সাইজ:

নগরীতে তীব্র যানজট ও ফুটপাথ দখলে ভোগান্তিতে নগরবাসী। সড়কে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি অটোরিকশা ও ফুটপাথে অবৈধভাবে দোকানপাট গড়ে ওঠায় সড়কে অসহনীয় যানজটের দেখা দিয়েছে— তেমনি ফুটপাথে পথচারীদের পা ফেলার জায়গা নেই। এতে করে মাত্র ১০ মিনিটের গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগছে ৪৫ মিনিটেরও বেশি।

এদিকে যানজট নিরসনে ও নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচলে কাজ করছে ট্রাফিক বিভাগ, তবে অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে দায়িত্বরতদের। রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডে ৭ লাখ ৮ হাজার ৩৮৪ জন মানুষের বসবাস। যাদের মধ্যে বেশির ভাগ চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, শিক্ষার্থী। এ সকল মানুষদের প্রতিদিনই নগরীর তীব্র যানজট মোকাবিলা করেই গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। আর এই যানজটের কারণে সময়মতো অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছেন না মানুষরা। এ ছাড়াও এম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবা দেয়া যানবাহনগুলোও দ্রুত গন্তব্য পৌঁছাতে পারছে না।

সরজমিন দেখা যায়, রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানী মোড় থেকে শুরু করে কাচারী বাজার পর্যন্ত তীব্র যানজট। বিশেষ করে অফিস টাইম ও বিভিন্ন স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির সময় এ যানজট তীব্র থেকে তীব্রতর আকার ধারণ করে। এদিকে মেডিকেল মোড় এলাকার দু’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সিও বাজার এলাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির সময় অতিরিক্ত যানজটের সৃষ্টি হয়। ওদিকে জাহাজ কোম্পানী থেকে সাতমাথা সড়কের ভঙ্গুর অবস্থার কারণে প্রায়ই লেগে থাকে যানজট। লালবাগ এলাকাতে সড়কের উপরে রিকশা স্ট্যান্ড হওয়ায় সবসময় যানজটের দেখা মেলে।
অন্যদিকে নগরীর লালবাগ, জাহাজ কোম্পানী, পায়রা চত্বর, বেতপট্টি, সুপার মার্কেট, সিটি বাজার, মডার্ন মোড়, টার্মিনালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সড়কের উপরে ও ফুটপাথে ভ্যান দাঁড় করিয়ে বা স্থাপনা নির্মাণ করে চলছে বিভিন্ন ব্যবসা। এসব দেখেও প্রশাসন যেন নীরব ভূমিকা পালন করছে। চাকরিজীবী এজাজ রিয়ন বলেন, বাসা থেকে আমার অফিস যেতে যেখানে মাত্র ১০ মিনিট লাগার কথা, সেখানে আধাঘণ্টা লেগে যায়। প্রতিদিন অফিস যেতে দেরি হয়। গতমাসে আমার তিনদিনের বেতন কেটে নেয় এই দেরি করে যাওয়ার জন্যে। পায়রা চত্বরের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শহরে অনেক বেশি অটোরিকশা হয়ে গেছে। এত অটোরিকশার প্রয়োজন নেই। সিটি করপোরেশন থেকে দেয়া অটোরিকশার একটি লাইসেন্স দিয়ে একাধিক যানবাহন চলছে। কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী সাইয়াদ্বীন জাহিন বলেন, ব্যাঙের ছাতার মতো ফুটপাথে দোকানপাট গড়ে উঠছে। আমরা চলাচল করবো কীভাবে। আবার এই অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে দিলে তখন ফুটপাথের ব্যবসায়ীরা কীভাবে সংসার চালাবে। এর একটি ভালো সমাধানের প্রয়োজন।
রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব এডভোকেট পলাশ কান্তি নাগি বলেন, তীব্র যানজটে জনজীবন অতিষ্ঠ। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা সন্তোষজনক নয়। অন্যদিকে জনসাধারণের মধ্যেও ট্রাফিক পুলিশ আইন অমান্যের প্রবণতা লক্ষণীয়। এক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি জনসচেতনতা জরুরি। অপরদিকে হকারদের জীবন-জীবিকার কথা চিন্তা করে সুবিধাজনক জায়গায় তাদের পুনর্বাসন করে ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে হবে। রংপুরা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মারুফ আহমেদ বলেন, যেসকল অটোরিকশার লাইসেন্স নেই, সেগুলোকে জব্দ করাসহ রংপুর নগরীর বাইরে থেকে আসা অটোরিকশা যাতে নগরীতে প্রবেশ করতে না পারে সে লক্ষ্যে বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে।