গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পাটগাতী মধুমতি সেতু থেকে খালেক বাজার পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশ আগাছা ও ঘন জঙ্গলে ঢেকে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশে গজিয়ে ওঠা ঝোপঝাড় ও জঙ্গলের কারণে একদিকে যেমন স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সড়কটি হয়ে উঠেছে মাদক সেবন, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আশ্রয়স্থল— এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের দাবি, দিনের বেলায়ও সড়কের বিভিন্ন নির্জন স্থানে অসামাজিক ও অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ঘন জঙ্গলের আড়ালে অপরাধীরা সহজেই আত্মগোপন করতে পারে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাজিরুল ইসলাম বলেন, এ রাস্তাটি দিয়ে এখন সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবকের কারণে এখানকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। জঙ্গলের কারণে তারা নানা ধরনের অপকর্ম করার সুযোগ পাচ্ছে। মধুমতি ভাসমান রেস্টুরেন্টের ওনার মাইনুল ইসলাম বলেন, এখানে একটি ভালো মানের রেস্টুরেন্ট রয়েছে। সন্ধ্যার পর রেস্টুরেন্টে আসা অতিথিদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের অনেক সময় পাহারা দিতে হয়, যাতে কোনো অঘটন না ঘটে। এরপরও অনেক সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। আমরা সেখানে গেলে অভিযুক্তরা ঘন জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে পড়ে, পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। স্থানীয়দের অভিযোগ— সড়কের দুই পাশের আগাছা ও ঝোপঝাড় নিয়মিত পরিষ্কার না করায় দিন দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। ফলে পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর নারী ও শিশুদের চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সড়কের দুই পাশের জঙ্গল ও আগাছা পরিষ্কার করার পাশাপাশি নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হলে অপরাধপ্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে। এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দিদারুল আলম বলেন, আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। রাস্তাটি যেহেতু এলজিইডি’র আওতাধীন, তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা— শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত সড়কের দুই পাশের জঙ্গল পরিষ্কার করে নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
