Warning: Trying to access array offset on false in /var/www/vhosts/mzamin.com/httpdocs/app/core/FileCache.php on line 28

Warning: Trying to access array offset on false in /var/www/vhosts/mzamin.com/httpdocs/app/core/FileCache.php on line 28
যেসব কারণে ধুঁকছে বিসিবি’র মেডিকেল বিভাগ - MZamin
যেসব কারণে ধুঁকছে বিসিবি’র মেডিকেল বিভাগ

যেসব কারণে ধুঁকছে বিসিবি’র মেডিকেল বিভাগ

ফন্ট সাইজ:

প্রায় ১৪০০ কোটি টাকার মালিক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিসিবি’র মেডিকেল বিভাগে নেই একটি আধুনিক চিকিৎসা সেন্টার। নেই একটিও উন্নত সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন আধুনিক এম্বুলেন্স। ইনজুরি হলে ক্রিকেটারদের বেশির ভাগকে বিদেশমুখী হতে হয়। সামনেই জাতীয় ক্রিকেট লীগ (এনসিএল), আন্তর্জাতিক দ্বিপক্ষীয় সিরিজসহ ক্রিকেটের ব্যস্ত মৌসুম। এর মধ্যেই মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ ও লিটন কুমার দাসের চোট এবং ফিটনেস নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। একই সঙ্গে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাঠের চিকিৎসা সুবিধা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। খেলোয়াড়দের বর্তমান শারীরিক অবস্থা, ব্যস্ত মৌসুমের ওয়ার্কলোড এবং বিসিবি’র মেডিকেল সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দৈনিক মানবজমিনের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান চিকিৎসক ডা. দেবাশীষ চৌধুরী। তার কথোপকথনের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন: মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানার ইনজুরির বর্তমান অবস্থা কী?
দেবাশীষ: মোস্তাফিজের চোট নিয়ে এখন ওরকম কোনো সমস্যা নেই, ও পুরোপুরি ঠিক আছে। আর রানার ব্যাপারে আমাদের প্রাথমিক যে ধারণা, সেরে উঠতে অন্তত ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগবে।
প্রশ্ন: সামনে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের অত্যন্ত ব্যস্ত সূচি। এই সময়ে খেলোয়াড়দের ওয়ার্কলোড বা ইনজুরি ঝুঁকি কমাতে মেডিকেল বিভাগ থেকে কোনো বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কি?
দেবাশীষ: দেখুন, খেলোয়াড়দের আলাদা করে নতুন কিছু বলার নেই। খেলোয়াড়রাও তাদের ওয়ার্কলোড সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত। টিমম্যানেজম্যান্ট খেলোয়াড়দের ওয়ার্কলোড বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে কে কখন খেলবে। চোট থাকলে পরিস্থিতি একরকম হয়, আর চোটমুক্ত থাকলে আরেকরকম। প্রত্যেকেই নিজ নিজ শারীরিক সক্ষমতা ও ওয়ার্কলোড জানে এবং সেভাবেই সব পরিচালিত হচ্ছে। এই দুই-একজন ছাড়া এই মুহূর্তে আমাদের বড় কোনো ইনজুরি উদ্বেগ নেই।
প্রশ্ন: চোটের প্রসঙ্গ এলেই কি তবে কেবল ‘ওয়ার্কলোড’কে দায়ী করা যায়, কোথাও কি কোনো সমন্বয়ের ঘাটতি আছে?

দেবাশীষ: সব চোট তো আর ওয়ার্কলোডের কারণে হয় না। কিছু ক্ষেত্রে হতে পারে, তবে ওয়ার্কলোডের কারণে ইনজুরি হওয়ার আশঙ্কা কম। কারণ প্রতিটি খেলোয়াড়ের ওয়ার্কলোড একেবারে পরিষ্কারভাবে নথিবদ্ধ (ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট) থাকে এবং আমরা তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করি। সাধারণত ওয়ার্কলোড নির্দেশনা মেনেই পরিকল্পনা করা হয়। কোনো খেলোয়াড় যদি নির্দিষ্ট ওয়ার্কলোডে পৌঁছাতে না পারে, তবে তাকে সময় দেওয়া হয়; আবার মাত্রা বেশি হলে কমিয়ে আনা হয়। ফলে চোটের পেছনে ওয়ার্কলোড ছাড়াও অন্যান্য শারীরিক বা পারিপার্শ্বিক কারণ থাকতে পারে।
প্রশ্ন: তাসকিন আহমেদ ও লিটন দাসের ফিটনেস পরিস্থিতি এখন কেমন?
দেবাশীষ: তাসকিনের অ্যাকিলিস টেন্ডনে চোট রয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ওর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সার্জারিতে যাব না। তাকে নিয়মিত রিহ্যাব ও কাজের চাপ (ওয়ার্কলোড) নিয়ন্ত্রণ করেই খেলতে হবে। সেভাবেই ও এগিয়ে যাচ্ছে—কিছু ম্যাচ খেলছে, কিছু জায়গায় বিশ্রাম নিয়ে খেলছে। আর লিটনকে নিয়ে বাইরে অনেক কথা হলেও আমাদের মেডিকেল বিভাগ থেকে উদ্বেগের কিছু নেই। লিটনের এই মুহূর্তে কোনো চোট সমস্যা নেই, সে সম্পূর্ণ সুস্থ আছে।
প্রশ্ন: দেশের ভেন্যুগুলোতে মাঠের মেডিকেল সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন ওঠে। আপনাদের লজিস্টিকসে কতটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে?

দেবাশীষ: বাস্তবতা মেনে নিলে বলতেই হবে, আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে অনেক অপ্রতুলতা আছে। সামনে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া মিলিয়ে দেশের ১৫টি ভেন্যুতে খেলা হবে। এর জন্য ১৫টি বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স ও ১৫ জন অভিজ্ঞ স্পোর্টস মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে এতজন স্পোর্টস মেডিসিনের ডাক্তার কোথায় পাওয়া যাবে? আমাদের মূল সমস্যাটা আঞ্চলিক অবকাঠামোয়। বিভাগীয় স্টেডিয়ামগুলোতে আমাদের নিজস্ব কোনো আধুনিক মেডিকেল ব্যবস্থা নেই। ভারত, অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের দিকে তাকালে দেখবেন, তাদের প্রাদেশিক বা রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলোর নিজস্ব আধুনিক মেডিকেল সেন্টার ও চিকিৎসক থাকে। বিসিসিআইকে হয়তো মুম্বাই বা বেঙ্গালুরুকে ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে বললেই তারা আঞ্চলিকভাবে সব প্রস্তুত করে ফেলে। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বা সিলেটে খেলা হলে ঢাকা থেকেই সব আধুনিক সরঞ্জাম বয়ে নিয়ে যেতে হয়।

প্রশ্ন: ম্যাচ চলাকালীন স্থানীয় সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালের সহায়তা কতটা পাওয়া যায়?
দেবাশীষ: স্থানীয় প্রশাসন সব সময় আন্তরিক সহায়তা করে। খেলা উপলক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় নির্দেশনা থাকে এবং সরকারিভাবে সিভিল সার্জন অফিস কিংবা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খেলোয়াড়দের জন্য ডেডিকেটেড রুম প্রস্তুত রাখা হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক দলগুলোর চাহিদা ও মান আলাদা। একজন বিদেশি খেলোয়াড় গুরুতর অসুস্থ বা আঘাতপ্রাপ্ত হলে তাকে স্থানীয় সাধারণ সরকারি হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হয় না। একইভাবে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে অনেক সময় আধুনিক এসি বা প্রশিক্ষিত প্যারামেডিকসের ঘাটতি থাকে। এ কারণে বিসিবিকে নিজ উদ্যোগেই স্থানীয় উন্নত মানের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর (যেমন চট্টগ্রামে ইম্পেরিয়াল, সিলেটে আল হারামাঈন ইত্যাদি) সঙ্গে চুক্তি করে ব্যাকআপ রাখতে হয়।
প্রশ্ন: বিসিবির নিজস্ব মেডিকেল সুবিধাকে এক ছাদের নিচে আনার কোনো উদ্যোগ কি নেয়া হচ্ছে?
দেবাশীষ: বর্তমানে একাডেমি ভবনের নিচতলায় সব সুযোগ-সুবিধা একত্রিত করার কাজ চলছে। আগে আমাদের মেডিকেল কার্যক্রম বিভিন্ন রুমে ছড়ানো-ছিটানো ছিল। তবে একাডেমি ভবনটি মূলত হাসপাতালের মতো মেডিকেল সেন্টারের উপযোগী করে তৈরি নয়। তাই সিভিল ওয়ার্কের মাধ্যমে এটিকে একটি কার্যকর ও ফাংশনাল রূপ দেয়ার চেষ্টা করছেন আমাদের বর্তমান চেয়ারম্যান।