উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের নতুন মৌসুমের শুরুতেই বড় জয়ে ইউরোপের মঞ্চ কাঁপাচ্ছে জায়ান্টরা। স্লোভান ব্রাতিস্লাভাকে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করে হ্যাটট্রিক শিরোপার অভিযান শুরু করলো টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। ফরাসি জায়ান্টদের হয়ে নিজের প্রথম চ্যাম্পিয়নস লীগ ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে যেন সবকিছু স্বপ্নের মতো লাগছে ফেরান তোরেসের। অন্য ম্যাচে ফেইনুর্দকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দেয় বার্সেলোনা।
এছাড়া ‘বিগ ম্যাচে’ অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলে দারুণ জয় তুলে নেয় লিভারপুল। নাপোলির বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে শেষ হাসি হাসে আর্সেনাল।
প্যারিসে স্লোভানের বিপক্ষে পিএসজির জয়টা একপেশে। ফেরান তোরেসের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ৬-১ গোলের বিশাল জয় তুলে নেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ৩১ থেকে ৫৭ মিনিটের মধ্যে অবিশ্বাস্য এই ২৬ মিনিটে ৩ গোল করেন স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানো একমাত্র গোলটি করা এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচের পর ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে তোরেস বলেন, ‘এটা একটা স্বপ্নের মতো ছিল, এক অবিশ্বাস্য রাত। পিএসজির জার্সিতে এটিই ছিল আমার প্রথম চ্যাম্পিয়নস লীগ ম্যাচ, আর আমরা জিতেছি এবং আমি হ্যাটট্রিক করেছি। এত উৎসাহী ভক্ত-সমর্থক দেখে মনে হচ্ছিল, দিনটি যেন কখনো শেষ না হয়!’ প্যারিসিয়ানদের হয়ে জোড়া গোল করেন উসমান দেম্বেলে, আর শেষ গোলটি করেন ফাবিয়ান রুইজ। ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলমুখে মোট ৩৫টি শট নেয় ফরাসি জায়ান্টরা। অন্য ম্যাচে, বৃষ্টিভেজা ক্যাম্প ন্যুতে ফেইনুর্দের বিপক্ষে গোলের বন্যা বইয়ে দেয় বার্সেলোনাও। এই মৌসুমে খেলা পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই প্রতিপক্ষের জালে পাঁচবার বল পাঠালো তারা। রবার্ট লেভানদোভস্কি ক্লাব ছাড়ার পর কোচ ‘মেকশিফট’ স্ট্রাইকার রাফিনহাকে দিয়েই আক্রমণভাগ সাজাচ্ছেন।
এ দিন ম্যাচে জোড়া গোল করেন রাফিনহা। একটি করে গোল আদায় করেন লামিন ইয়ামাল, গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও করিম আদেয়েমি। ফেইনুর্দের সেম স্টেইন একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত ৫-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কাতালানরা। এদিকে ইংলিশ জায়ান্ট লিভারপুল ঘরের মাঠে পিছিয়ে পড়েও ২-১ গোলে হারায় স্প্যানিশ জায়ান্ট অ্যাটলেটিকোকে। মার্কোস ইয়োরেন্তের গোলে মাদ্রিদের ক্লাবটি এগিয়ে গেলেও, ডমিনিক সোবোসলাইয়ের গোলে সমতায় ফেরে অল রেডরা। এরপর অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের বুলেটগতির দুর্দান্ত শটে জয় নিশ্চিত হয় লিভারপুলের। আগের দিন চুক্তি নিয়ে ক্লাবের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করলেও মাঠে নিজের কার্যকারিতা ঠিকই প্রমাণ করলেন এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। ইতালির মাটিতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গতবারের রানার্সআপ আর্সেনালও। নাপোলির বিপক্ষে ম্যাচটি ড্রয়ের শঙ্কা জাগালেও অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের একক নৈপুণ্যে ১-০ গোলের জয় নিয়ে ফেরে গানাররা। ওডেগার্ডের এই জয়সূচক গোলটি আসার নেপথ্য কারিগর ছিল টানা ২৯টি পাস, যা চ্যাম্পিয়নস লীগে আর্সেনালের পাসিং ফুটবলের এক চমৎকার নিদর্শন হয়ে রইলো। এছাড়া লিভারপুলের মতো অন্য ম্যাচে জার্মানির ভিএফবি স্টুটগার্ট ৩-১ গোলে নরওয়ের ভাইকিংকে এবং পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্তিং সিপি একই ব্যবধানে হারায় গালাতাসারাইকে।
