দেশের সব ধরনের মাদক প্রতিরোধ ও নির্মূলের মূল দায়িত্বে থাকা একমাত্র সংস্থাটির নাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। মাঠে-ঘাটে, শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদকের ছড়াছড়ি। সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটির জেলা শহরগুলোতে রয়েছে নিজস্ব সার্কেল। তবুও রোধ হচ্ছে না মাদকের বিস্তার। মাদক বিস্তাররোধের পরিবর্তে ডিএনসি’র রয়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক। ডিএনসি’র কর্মকর্তাদের মাদক নির্মূলের চেয়ে বৈধ বারগুলোতে অভিযানের বেশি আগ্রহ। আবার অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের আটক কিংবা মাদক উদ্ধার হলেও জব্দকৃত মাদক সঠিকভাবে নথিভুক্ত হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি’র) চেয়ে বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য সংস্থাগুলো তুলনামূলক বেশি মাদক উদ্ধার করছে। লক্ষ্মীপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদক সিন্ডিকেটের বড় কোনো মাফিয়াকে গ্রেপ্তার কিংবা মাদকের বড় কোনো চালান জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে এমন কোনো নজির নেই। গত দুই বছরে লক্ষ্মীপুরে মাদকের ভয়াবহতা কয়েক গুণ বাড়লেও কিন্তু উদ্ধারে নেই তৎপরতা। গত দেড় বছরে লক্ষ্মীপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর গাঁজা উদ্ধার করেছে ১৪৭ কেজি, ইয়াবা ৩১ হাজার দুইশ’ পিস, দেশীয় মদ ২৩ লিটার, নগদ অর্থ ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, অভিযান করেছে ২ হাজার ৪৮২টি, মামলা ৪৮২টি, গ্রেপ্তার ৪৯৪ জন। যা অন্য সংস্থাগুলোর তুলনায় একেবারে নগণ্য। তথ্যদাতা, মাদকসেবনকারী ও মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ার, টিপু, ওমর বলেন, লক্ষ্মীপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি’র) কর্মকর্তারা অবৈধ মাদক উদ্ধারের পর মামলার নথিতে জব্দ করা নগদ অর্থ, গাঁজা, ইয়াবাসহ উদ্ধার হওয়া আলামত সঠিকভাবে নথিভুক্ত না করার অভিযোগ করেন। লক্ষ্মীপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, আমার অফিসের কোনো লোক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নয়। তারপরও আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখবো।
