জটিল রোগ ‘বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া’য় আক্রান্ত সাড়ে চার মাসের শিশু ফুয়াদ। অবুঝ শিশুটিকে বাঁচাতে প্রয়োজন লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট। সেজন্য যেতে হবে ভারতের চেন্নাইয়ে। লাগবে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা। এ পরিস্থিতিতেও হাল ছাড়েননি গর্ভধারিণী মা ভূবন আক্তার বিথী। নিজের লিভার দিয়ে বাঁচাতে চান তার নাড়িছেঁড়া ধন ফুয়াদকে। পরিবারের সামর্থ্য না থাকায় চিকিৎসার টাকার জন্য চান মানুষের সহযোগিতা। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের কোষাকান্দা গ্রামের অসহায় এই মায়ের আকুতি ছাপা হয় গত ৩১শে আগস্ট দৈনিক মানবজমিন-এ। ‘নিজের লিভার দিয়ে সন্তানকে বাঁচাতে চান মা, প্রয়োজন সহযোগিতা’ শিরোনামে প্রকাশিত সচিত্র প্রতিবেদনটি নজরে আসে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের। এরপরই আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে অসহায় সেই মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন।
ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের চিকিৎসা সহায়তা তহবিল থেকে শিশুটির মা ভূবন আক্তার বিথী’র হাতে গত মঙ্গলবার ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় বুধবার কিশোরগঞ্জ পৌরসভার পক্ষ থেকে পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক (উপসচিব) জেবুন নাহার শাম্মী তুলে দেন এক লাখ টাকার চেক। এই দেড় লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়া ছাড়াও সরকারের আরও বিভিন্ন বিভাগ/দপ্তর থেকে আর্থিক সহযোগিতা দেয়ার প্রক্রিয়া চলমান রেখেছেন সংশ্লিষ্টরা। শিশুটির চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার বিষয়গুলো সমন্বয় করছেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুল হাসান মারুফ। তিনি বলেন, দৈনিক মানবজমিন-এর প্রতিবেদনের মাধ্যমে সন্তানের চিকিৎসার জন্য নিজের লিভার দিয়ে দিতেও প্রস্তুত এই মায়ের অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হয়তো এই অর্থ বাচ্চাটির চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত নয়। কিন্তু একজন অসহায় মায়ের কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানো এটুকুই বড় প্রাপ্তি। এই মায়ের মুখে আশার আলো ফুটুক, তার সন্তান সুস্থ হয়ে মায়ের কোলে ফিরে আসুক—এই প্রার্থনাই আমাদের। এই মা মমতার লড়াইয়ে যেন সফল হতে পারেন, সেজন্য আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। হয়তো আরও কিছু আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা আমরা করতে পারবো। এরপরও সমাজের হৃদয়বান মানুষ আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে পাশে দাঁড়ালে শিশুটির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এদিকে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগে আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে আবেগাপ্লুত ভূবন আক্তার বিথী। আঁধারের মাঝেও যেন হঠাৎ আলোর ঝলক দেখতে পাচ্ছেন তিনি। তার বিশ্বাস, মানুষের আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে তিনি তার সন্তানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারবেন। এজন্যে তিনি আবারও সবার কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন।
