সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের মনরতল বাজার এলাকায় ইজারাবহির্ভূত স্থান থেকে দিনরাত বালু উত্তোলন ও লুটপাট চলছে। এতে করে উপজেলার সীমান্তঘেঁষা মনরতল বাজার, বাজার-সংশ্লিষ্ট মোহনা সমাজকল্যাণ যুব সংঘ, সুলতানপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম, ফসলি জমি, স্কুল, মাদ্রাসাসহ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টায় সরজমিন পরিদর্শনকালে স্থানীয়রা জানান, পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের দেড়িখাই-বাগাবন্দ মৌজার সুলতানপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর, ইমাম উদ্দিন, সেলিমসহ কয়েকজন বিএনপিকর্মী পরিচয়ধারী ব্যক্তি রাতের আঁধারে ইজারাবহির্ভূত ওই এলাকা থেকে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন করে লুটপাট করে আসছেন। এতে করে নদীর তীর ও আশপাশের গ্রাম জনবসতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহ ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এলাকার প্রাচীন মনরতল মোহনা সমাজকল্যাণ যুব সংঘ ও মনরতল বাজারের বিভিন্ন স্থাপনা বর্তমানে নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলন ও লুটপাটের কারণে মনরতল বাজারের অস্তিত্ব বিলীনের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ আহমদ রোববার গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, তারা ইজারা এনেছে হাদারপার ও বিছনাকান্দি এলাকায় অবস্থিত বালুমহাল অথচ জোরপূর্বক মনরতল এলাকায় যন্ত্রদানব ড্রেজার মেশিন লাগিয়ে প্রতি রাতে বালি লুটপাট করে আসছে। প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ বিষয়টি অবহিত তবুও এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেই। তিনি বলেন, আমি আমার দায়ের করা অভিযোগে অনতিবিলম্বে ইজারাবহির্ভূত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন ও লুটপাট বন্ধ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সাপেক্ষ মনরতল বাজার ও আশপাশের এলাকা রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছি।
সরজমিন পরিদর্শনকালে অভিযুক্তদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার রতন কুমার অধিকারী জানান, ইজারাবহির্ভূত এলাকায় যারা বালু লুটপাট করে আসছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। ইতিপূর্বে অগণিত শ্রমিক, ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাসহ নৌযান ডুবিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ইজারাদার প্রতিষ্ঠানসহ যে কাউকে ইজারাবহির্ভূত এলাকায় বালু উত্তোলনে পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
