১৭ই সেপ্টেম্বর ফেনী সফরে যেসব কর্মসূচিতে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

আগামী ১৭ই সেপ্টেম্বর ফেনী সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিনব্যাপী সফরে সরকারি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়া ছাড়াও বিএনপি’র জনসভায় যোগ দিবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের শুরুতে জেলার পরশুরামে ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বাঁধের ভাঙন ও বন্যায় মানুষজন যে ক্ষতির মুখে পড়েন তা থেকে রক্ষা পাবেন।

সামগ্রিকভাবে এ বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষ এটির সুফল পাবেন। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত ১৬ই জুন একনেকে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ অনুমোদন দেয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ফেনী সফরের বিভিন্ন কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, আগামী ১৭ই সেপ্টেম্বর তিনটি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা প্রদান এবং ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়া পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একনেকে অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের অতিগুরুত্বপূর্ণ ‘মুহুরী প্রকল্প’-এর শুভ উদ্বোধন করবেন তিনি। সফরে প্রধানমন্ত্রী তার নানার বাড়ি ফুলগাজীর শ্রীপুরের মজুমদার বাড়িতে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

এ ছাড়া পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত করবেন। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা এবং রোগীদের জন্য বিনামূল্যে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসার বিশেষ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হবে। সফরকালে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। বুধবার রাত ১০টার দিকে ফেনীর ফুলগাজী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ পরিদর্শন করে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এসব তথ্য জানান। পরিদর্শনকালে তিনি জনসমাগম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। ফুলগাজী সরকারি হাই স্কুল মাঠে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সূত্র জানিয়েছে, এ জনসভাস্থল থেকে ফুলগাজীকে দেশের নতুন পৌরসভায় উন্নীতকরণের ঘোষণা দিবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ঘোষণার পর ফেনী জেলার ছয় উপজেলাতে ৬টি পৌরসভা গঠিত হবে। এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পৈতৃক বাড়ি ও নিজের নির্বাচনী এলাকা ফুলগাজীকে থানা থেকে উপজেলায় উন্নীত করেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় ১৯৯৩ সালে লোকসানের অজুহাতে বন্ধ করে দেয়া ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ পুনরায় চালুর দাবি জানাবেন বিএনপি নেতারা। এটি চালু হলে জেলার উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসার প্রসার ঘটবে।

পরিদর্শনকালে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ১৭ই সেপ্টেম্বরের এই ঐতিহাসিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ফুলগাজী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহাবুবউল করিম, ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাউছার হামিদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহেলী নোশীন প্রত্যাশা, বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব, ফুলগাজী উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক ফখরুল আলম স্বপন, সদস্য সচিব আবুল হোসেন ভূঁইয়া এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।