দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে বাবা নিহতের খবরে ৮ বছর বয়সী বাইজিদ অঝোরে কাঁদলেও ছোট দুই সন্তান সাড়ে ৩ বছর বয়সী সিনথিয়া ও ২ বছর বয়সী সামিরা একদমই অবুঝ। মাথার উপর বাবা নামক বটগাছটি যে আর দুনিয়াতে নেই এটা বুঝার বয়সই যে ওদের হয়নি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অঝোরে কাঁদছেন পুরো পরিবার। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠছে আকাশ-বাতাস। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের সিপাইকান্দি গ্রামে জামাল উদ্দিন গত বুধবার দিবাগত রাতে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়। জানা যায়, জামাল গ্রামের জমিজমা বিক্রির টাকা নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় ভ্যারাইটি সুপারশপের দোকান দেন। সেখানে একজন কর্মচারী রেখে তিনি নিজেই দোকান পরিচালনা করতেন।
তবে সন্ত্রাসীদের গুলিতে সেই কর্মচারী আহত হয়ে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিহত জামালের পরিবার ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের সিপাইকান্দিতেই বসবাস করে। নিহত জামালের স্ত্রীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, “আমার সব শেষ। ছোট সন্তানদের নিয়ে এখন আমি কই যামু। বিদেশে বাবা মারা গেছে এইটা বড় সন্তান বুঝলেও ছোট দুইজন সেটা বুঝারও বয়স হয়নি।” নিহতের বাবা সিধু ব্যাপারীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, “যার সন্তান যায় সেই বাবাই বুঝে সন্তান হারানোর ব্যথা। ছোট ছোট বাচ্চা রাইখা পোলা আমার বিদেশ গেছিল। অহন তো সবই শেষ হইয়া গেলো।” মা খুকুমণি কাঁদতে কাঁদতে জানান, “আমি কিছুই চাই না। আমার সন্তানডারে বুকে জড়াইয়া ধরতে চাই। সরকার যেনো আমার পোলার লাশটা অন্তত আমার বুকে ফিরাইয়া দেয়।” মুঠোফোনে কথা হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি গোলাম নবী খোকন জানান, দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত জামালের পরিবারটি খুবই শান্ত প্রকৃতির। লাশটি দ্রুত আনার জন্য আমি উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ওই দেশের দূতাবাসে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।
