প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রচিন্তায় পরিবর্তনের আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ সংকেত!

‘মহামান্য-মাননীয়’ নয়

প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রচিন্তায় পরিবর্তনের আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ সংকেত!

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতার মোহ, অহংকার এবং রাজকীয় আড়ম্বরের চর্চা এক দীর্ঘস্থায়ী সংক্রামক ব্যাধি হিসেবে চেপে বসেছিল। বিশেষ করে পতিত ও পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দীর্ঘ কর্তৃত্বপরায়ণ শাসনামলে ব্যক্তিসেবাদাসত্ব, তোষামোদ এবং ক্ষমতার উগ্র ও ন্যক্কারজনক প্রদর্শনই হয়ে উঠেছিল রাষ্ট্রযন্ত্র ও প্রশাসনে টিকে থাকার সবচেয়ে বড় যোগ্যতার মাপকাঠি। ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের ঘিরে স্তুতির বন্যা, থ্রিডি ব্যানার, অতিকায় বিলবোর্ড এবং রাজকীয় ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ উপাধির জোয়ারে আড়াল করে দেওয়া হয়েছিল দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও বাক্‌স্বাধীনতা। রাষ্ট্র পরিচালনা হয়ে উঠেছিল কেবলই প্রজাদের ওপর একচ্ছত্র হুকুমদারির নামান্তর। কিন্তু ক্ষমতার সেই পুরনো, বিষাক্ত অধ্যায় ও অপসংস্কৃতিকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশে সূচিত হয়েছে এক নতুন রাষ্ট্রচিন্তা ও মূল্যবোধের পথচলা।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের আকুণ্ঠ সমর্থনে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতার সেই দেখা-অদেখা সুউচ্চ প্রাচীর চূর্ণ করে দিয়ে দেশের মানুষকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—তিনি শাসক হতে আসেননি, বরং জনগণের একজন বিশ্বস্ত ‘সেবক’ হয়েই পথ চলতে চান। ‘জনগণই সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার মূল উৎস’—এই চিরায়ত গণতান্ত্রিক মূলনীতিকে তিনি কেবল গুটিকয়েক মুখস্থ বক্তৃতা বা নির্বাচনী ইশতেহারে বন্দি না রেখে নিজের দৈনন্দিন দৃষ্টিভঙ্গি, সিদ্ধান্ত এবং আচরণে প্রমাণ করতে শুরু করেছেন।

ঠিক এই রাজনৈতিক রূপান্তর ও দর্শনের ইতিবাচক প্রেক্ষাপটেই এসেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক পরিপত্র। সরকারি যেকোনো দাপ্তরিক যোগাযোগ, চিঠিপত্র, নথি এবং সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানসহ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক রাজকীয় শব্দ ব্যবহারের ওপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পরিপত্রে সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, রাষ্ট্রীয় কাজ ও দাপ্তরিক নথিপত্রে এ ধরনের কৃত্রিম ও চাটুকারিতাপূর্ণ বিশেষণ অবিলম্বে বর্জন করতে হবে।

আপাতদৃষ্টিতে এটিকে কেবল প্রশাসনিক ভাষার পরিমার্জন বা একটি আদেশের বাস্তবায়ন মনে হতে পারে; কিন্তু গভীরভাবে অনুধাবন করলে দেখা যাবে—এটি আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে শাসকের মনস্তাত্ত্বিক গোলামি থেকে মুক্তির এক আমূল ও ঐতিহাসিক বিপ্লব। রাজকীয় সামন্তবাদী মানসিকতার শৃঙ্খল থেকে রাষ্ট্রকে মুক্ত করে সাধারণ গণমানুষের কাতারে নামিয়ে আনার যে সাহসিকতা প্রধানমন্ত্রী দেখিয়েছেন, তা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অনন্য ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানাই।

এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন কেবল পরিপত্রের কাগজে কিংবা নির্দেশনার ফাইলে সীমাবদ্ধ নেই; প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে এই ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো বাস্তবে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ইতিহাস সাক্ষী, বাংলাদেশে ইতিপূর্বে অনেক সরকারপ্রধানই পরিবর্তন ও সুশাসনের বুলি শুনিয়েছেন, কিন্তু দিনশেষে হেঁটেছেন স্বৈরাচার ও তোষামোদের চেনা পথেই। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ফাঁকা বুলি না ফুটিয়ে বাস্তবে নিজেই করে সেই সংস্কারমূলক পরিবর্তনের উদাহরণ তৈরি করছেন।

গুলশানের বাসভবন থেকে নিয়মানুবর্তিতা মেনে নির্দিষ্ট সময়ে সচিবালয়ে পৌঁছানো, টানা দাপ্তরিক কাজ সম্পাদন করা, অনাড়ম্বর ও সাধারণ পোশাক-আশাক পরিধান—এসবের মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে এক নতুন শালীনতা ও সময়ানুবর্তিতার ধারা তৈরি করেছেন। সরকারি কোশাগারের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সংকোচন করা, রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় রোধে কঠোর নীতি গ্রহণ করা এবং অনাবশ্যক বিদেশ ভ্রমণ পুরোপুরি ঠেকিয়ে দেশের সাধারণ করদাতাদের কষ্টার্জিত অর্থ সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কথায় ও আচরণে বিনয়, ভিন্নমতের প্রতি পরম সহিষ্ণুতা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর যে নতুন সংস্কৃতি তিনি চালু করেছেন, তা মূলত ভয়-ভীতি ও পেশিশক্তির রাজনীতির পথ রুদ্ধ করে একটি সহনশীল, স্বাধীন ও অবাধ গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণেরই সোপান। এতে আমার ন্যূনতম সন্দেহ নেই।

তোষামোদের পুরনো রুটিন ভেঙে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে পরিশুদ্ধ করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর ভূমিকা সাম্প্রতিক আরও একটি ঘটনায় প্রতিভাত হয়েছে। সরকারি যেকোনো কর্মসূচির প্রচারে ব্যবহৃত ব্যানার, ফেস্টুন কিংবা বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি কড়া নির্দেশনা জারি করা হয়। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়—প্রচারণামূলক সামগ্রীর মূল দৃষ্টি বা ফোকাস হতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির উদ্দেশ্য, বিষয়বস্তু ও মূল বার্তা; কোনো ব্যক্তি বা নেতার ছবি নয়।

এই আদেশের পেছনের ঘটনাটি দেশের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় দৃষ্টান্ত। সকালে বাসভবন থেকে সচিবালয়ে আসার পথে সড়কের মোড়ে নিজের ছবি-সংবলিত ব্যানার দেখে প্রধানমন্ত্রী বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং দপ্তরে পা রাখামাত্রই মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে ডেকে এনে অবিলম্বে এই তোষামোদমূলক প্রচারণা বন্ধের নির্দেশ দেন। সস্তা ব্যক্তিপূজা ও আত্মপ্রচারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে কাজের মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠনে তাঁর এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ জনগণের হৃদয়ে গভীরভাবে রেখাপাত করেছে।

‘মহামান্য-মাননীয়’ প্রথা বিলোপ এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণা বন্ধের এই সাহসী উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় দেশের আপামর জনতার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও যুগোপযোগী আবেদন রাখতে চাই। আমাদের দেশের সরকারি দপ্তরগুলোতে আমলা, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাধারণ সেবাগ্রহীতা নাগরিকদের পক্ষ থেকে ‘স্যার’ সম্বোধন করার যে সামাজিক বাধ্যবাধকতা বা রেওয়াজ গড়ে উঠেছে, তা বাংলাদেশের কোনো আইন, বিধি কিংবা সংবিধানে লেখা নেই। এটি সম্পূর্ণই ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠীর রেখে যাওয়া প্রভুসুলভ মানসিকতার এক কালো অধ্যায়।

এখানে একটি নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরতে চাই। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে ‘স্যার’ না ডাকার অপরাধে কীভাবে সেবা পেতে আসা সাধারণ মানুষকে হেনস্তা, গালিগালাজ, এমনকি শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। কিছুদিন আগেই নরসিংদীতে শপিং মলে কেনাকাটা করতে গিয়ে একজন নারী এসি ল্যান্ডকে দোকানের কর্মচারী ‘আপা’ বলে সম্বোধন করায় সেই কর্মকর্তা চরম ক্ষিপ্ত হয়ে সাধারণ নাগরিককে পুলিশে দেওয়া ও লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটিয়েছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। একইভাবে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসককে, থানা কিংবা পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মকর্তাদের এবং উপজেলায় ইউএনওদের ‘স্যার’ বা ‘হুজুর’ না ডাকলে সেবা না দিয়ে ঘুরানোর হাজারো ঘটনা অহরহ ঘটছে।

তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবিনয় নিবেদন—দাপ্তরিক নথি থেকে যেমন ‘মহামান্য-মাননীয়’ মুছে ফেলা হয়েছে, তেমনি সরকারি কোনো পর্যায়ে সাধারণ নাগরিকদের জন্য কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ ডাকার এই প্রভুসুলভ ও ঔপনিবেশিক নিয়ম বাতিলের নির্দেশ দিয়ে একটি ঐতিহাসিক পরিপত্র জারি করা হোক। একজন নাগরিক সরকারি অফিসে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তাঁর পদবি ধরে সম্মানের সঙ্গে ডাকবেন—যেমন ‘ইউএনও সাহেব’, ‘ওসি সাহেব’, ‘ডাক্তার সাহেব’, ‘এসপি সাহেব’ কিংবা ‘সচিব সাহেব’। এই একটিমাত্র পরিপত্র জারি হলে সরকারি কর্মকর্তাদের ভেতরে চেপে থাকা প্রভুসুলভ মানসিকতার কবর রচিত হবে। প্রতি মুহূর্তে তাঁদের মনে পড়বে—তাঁরা জনগণের মনিব বা প্রভু নন, বরং জনগণের করের টাকায় চলা বেতনভুক্ত ‘সেবক’।
তবে এখানে আরেকটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর এই বহুমাত্রিক যুগান্তকারী উদ্যোগ ও রাষ্ট্রচিন্তার পথে সবচেয়ে বড় কালবৈশাখী ঝড় হয়ে দাঁড়িয়েছে একশ্রেণির কায়েমি স্বার্থান্বেষী চক্রান্তকারী গোষ্ঠী। আমি এর আগেও আমার কলামে স্পষ্ট সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছি এবং আজও বলছি—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন দেশের ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ও একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে দিনরাত এক করে কাজ করছেন, ঠিক তখনই সিভিল প্রশাসন, আমলাতন্ত্র ও পুলিশের একটি বড় অংশ এবং সুবিধাভোগী কিছু রাজনৈতিক অসৎ চক্র এই কল্যাণকর রাষ্ট্রচিন্তা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।

নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে,রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও আমলাতন্ত্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এবং পুলিশের বড় একটি অংশের মধ্যে সেই পুরনো দাসত্ব ও প্রশাসনিক অহংকার এখনও বিদ্যমান। ফাইল আটকে রেখে ঘুষ গ্রহণ, দুর্নীতি, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বজায় রেখে সংস্কারকে নস্যাৎ করতে তারা দিনরাত চক্রান্ত করে চলেছে। পুলিশ বাহিনীর একটি অংশ এখনও জনবান্ধব না হয়ে ওপর থেকে হুকুমদারির সুযোগ খোঁজে। অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি সুযোগসন্ধানী ও অসৎ গোষ্ঠী ক্ষমতার দাপট দেখানো, অন্যায্য তদবির এবং সিন্ডিকেটভিত্তিক দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, প্রধানমন্ত্রীর এসব ইতিবাচক ও যুগান্তকারী সংস্কার রুখে দিতে তাঁর চারপাশে এক অদৃশ্য কাচের দেয়াল বা চাটুকারদের সিন্ডিকেট তৈরি করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যাতে মাঠপর্যায়ের প্রকৃত সত্য ও সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের খবর প্রধানমন্ত্রীর কান পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারে। কদিন আগে বিএনপির প্রবীণ নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস আক্ষেপ করে একটি নিষ্ঠুর সত্য উচ্চারণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “প্রধানমন্ত্রীর এত ভালো ভালো উদ্যোগ ও জনকল্যাণমুখী কাজগুলো কিছু সুবিধাবাদী ও দুষ্কৃতকারী মানুষের অপকর্মের আড়ালে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।” মির্জা আব্বাসের এই আক্ষেপ আজ প্রতিটি সাধারণ দেশপ্রেমিক নাগরিকের দীর্ঘশ্বাস।

সুতরাং আজকের এই ঐতিহাসিক বাঁকে দাঁড়িয়ে একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গভীর আস্থা ও বিনয়ের সঙ্গে আহ্বান জানাতে চাই—আপনার ব্যক্তিত্বের বিনয়, উদারতা ও গণতান্ত্রিক মানসিকতা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনস্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে আপনাকে আপসহীন ও ইস্পাতকঠিন হতে হবে।

আপনার চারপাশে যে তোষামোদকারী ও আমলাতান্ত্রিক সিন্ডিকেট বিষাক্ত বলয় তৈরির চক্রান্ত করছে, সেটিকে অনতিবিলম্বে কঠোর হাতে চূর্ণ করে দিন। নথিপত্র থেকে ‘মাননীয়-মহামান্য’ বর্জন যেমন মনস্তাত্ত্বিক মুক্তির প্রথম সংকেত, তেমনি আমলাদের ‘স্যার’ ডাকার দাসত্ব বিলোপ করা এবং চাটুকার সিন্ডিকেটকে রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে উপড়ে ফেলা প্রশাসনিক মুক্তির একমাত্র উপায়। এই দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রান্তকারীরা যদি আপনার মধ্যে সামান্যতম নমনীয়তা দেখতে পায়, তবে তারা আপনাকে আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে দেবে না এবং আপনাকে অকার্যকর করে দেওয়ার চেষ্টা করবে।

পরিশেষে বলতে চাই, প্রজাতন্ত্রের চালিকাশক্তি যখন তোষামোদ আর ভণ্ডামি ছেড়ে প্রকৃত সেবায় নিয়োজিত হবে, তখনই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্নরা মুক্ত বিহঙ্গের মতো ডানা মেলবে। জনগণ আজ সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে আপনার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে। এখন আপনার মূল দায়িত্ব হলো—জনগণের এই ভরসাকে শক্তি বানিয়ে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সকল সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং তোষামোদমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক এক নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথকে সুগম করা। কারণ এদেশের সাধারণ জনতাই বিএনপি তথা আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি।

লেখক:সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন। ই-মেইল:[email protected]