যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক আন্ডারওয়াটার বা সামুদ্রিক ড্রোন আটক করেছে ইরান। আটককৃত এই ডুবোযান নিয়ে গবেষণা এবং ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ (প্রযুক্তির উল্টো বিশ্লেষণ করে নকল তৈরি) করার সুযোগ পেয়েছে ইরান বলে মনে করা হচ্ছে। ড্রোন আটকের এ ঘটনা মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এবং ড্রোনটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের জন্য একটি বড় ধাক্কা। এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।
মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং অ্যান্ডুরিল ড্রোনটির ইরানের হাতে পড়ার বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাইছে না। ডাইভ-এলডি মডেলের এই স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোনটি দীর্ঘ পাল্লার নজরদারি এবং অন্যান্য সামুদ্রিক মিশনের জন্য তৈরি করা নতুন প্রজন্মের সামরিক ড্রোন, যা মানুষের খুব কম হস্তক্ষেপ ছাড়াই টানা কয়েকদিন চলতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ড্রোন থেকে ইরান হয়তো চূড়ান্ত কোনো সামরিক সুবিধা পাবে না, কিন্তু এটি তেহরানের জন্য বড় এক প্রচারণামূলক বিজয়।
ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে ইরানের বিভিন্ন দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে উপহাস করেছে। ঘানায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছে, আমাদের ছেলেরা একে মাছ ধরার জালে প্লাস্টিকের বোতল তোলার মতো করে তুলে এনেছে। অন্যদিকে, ভারতের হায়দ্রাবাদের ইরানি দূতাবাস লিখেছে, আগামীকাল সকালে আমাদের রিভার্স-ইঞ্জিনিয়াররা আনবক্সিং (মোড়ক উন্মোচন) অনুষ্ঠান করবে!
মার্কিন নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, এটি একটি পুরোনো মডেলের ত্রুটিপূর্ণ ড্রোন ছিল। এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা ক্লাসিফায়েড সনার ও রাডার সরঞ্জাম ছিল না। নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এটি বিকল হয়ে পানিতে পড়ে থাকার পর ইরানি বাহিনী সেটি উদ্ধার করে।
হাডসন ইনস্টিটিউটের সেন্টার ফর ডিফেন্স কনসেপ্টস অ্যান্ড টেকনোলজির পরিচালক ব্রায়ান ক্লার্ক মনে করেন, ড্রোনটির সফটওয়্যারে নিজস্ব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকলেও ইরানি প্রকৌশলীরা এর মেকানিক্যাল বা যান্ত্রিক দিকগুলো নিশ্চিতভাবেই রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং করতে পারবেন। এর আগে ২০১১ সালে মার্কিন আরকিউ-১৭০ সেন্টিনেল ড্রোন আটকের পরও ইরান সেটি রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং করে নিজস্ব মডেল তৈরি করেছিল।
