হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মুঠোফোনের গোপন তথ্য

সহযোগীদের খবর

হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মুঠোফোনের গোপন তথ্য

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মুঠোফোনের গোপন তথ্য’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের মানুষ মুঠোফোনে কার সঙ্গে কথা বলেন, কী বার্তা পাঠান, কোথায় কোথায় যান—এসব তথ্য টাকা দিলেই জানা যায়। রীতিমতো ওয়েবসাইট খুলে নাম নিবন্ধন করে তা বহুদিন ধরে বিক্রি হয়।

যাঁরা বিক্রি করেন, তাঁদের কাছে ৬ সেপ্টেম্বর পাঠানো হয়েছিল একজন মন্ত্রীর নম্বর। দেওয়া হয়েছিল তাঁদের দাবি করা টাকা। কয়েক ঘণ্টা পরই পাওয়া যায় সেই মন্ত্রীর মুঠোফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর)। সিডিআরে মন্ত্রী তিন মাসে কার সঙ্গে কত সময় কথা বলেছেন, কখন কথা বলেছেন, কথা বলার সময় তিনি কোথায় অবস্থান করেছেন ইত্যাদি নানা গোপন তথ্য রয়েছে।

সিডিআর আসল কি না, তা জানতে ৭ সেপ্টেম্বর গেলাম মন্ত্রীর দপ্তরে। সিডিআর দেখানোর পর মন্ত্রী নিজের মুঠোফোন বের করলেন। মিলিয়ে দেখলেন। তারপর অবাক হয়ে বললেন, এটা কীভাবে সম্ভব! তাহলে তো কেউ নিরাপদ নয়।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশের যেকোনো মুঠোফোন ব্যবহারকারীর নম্বরের সিডিআর পাওয়া সম্ভব। প্রথম আলো একজন মন্ত্রীর পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার দুজন প্রধানের মুঠোফোন নম্বরের সিডিআর সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি প্রথম আলোর দুজন কর্মীর মুঠোফোন নম্বরের সিডিআর সংগ্রহ করা হয়। মিলিয়ে দেখা যায়, সব কটিই সঠিক।

মুঠোফোনের গোপন তথ্য কেনাবেচাকে ঘিরে অনলাইনে একটি বাজার গড়ে উঠেছে। ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে, ওয়েবসাইট খুলে এবং টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এসব তথ্য বিক্রি হচ্ছে। টাকা দিলেই পাওয়া যাচ্ছে ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র, সিডিআর, মুঠোফোনের অবস্থান, খুদে বার্তা বা এসএমএস, কর শনাক্তকরণ নম্বরের (টিআইএন) সনদ, পাসপোর্টের তথ্য ও মুঠোফোনে লেনদেনের আর্থিক বিবরণী।

প্রথম আলো গত অক্টোবরে এ বিষয়ে কিছু তথ্য এবং কয়েকজনের মুঠোফোনের সিডিআর সংগ্রহ করেছিল। এদিকে গত ৩১ আগস্ট বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাব। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করছে এমন ১০টি সক্রিয় ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ৬০০টির বেশি পোস্টের সন্ধান পেয়েছে তারা।

প্রথম আলো অনুসন্ধানে বের করেছে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তথ্যও নিরাপদ নয়। এমনকি যাঁদের দায়িত্ব মানুষকে নিরাপদ রাখা, তাঁদের গোপন তথ্যই ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।

তথ্যব্যবস্থায় প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ডিজিটালি রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, মানুষের ব্যক্তিগত যোগাযোগ তাঁর একান্ত গোপনীয় তথ্য। সেটা যখন হাত বাড়ালেই পাওয়া যায়, তখন ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়। তিনি বলেন, ধরা যাক কোনো অপরাধী চক্র কারও ক্ষতি করতে চায়। তাহলে মুঠোফোনের সিডিআর কিনে তিনি কোথায় কোথায় যান, সে সম্পর্কে আঁচ করতে পারে।

তিন মাসের তথ্যের দাম ১০৫০ টাকা

যেসব ওয়েবসাইটে সিডিআর বিক্রি হয়, তার একটিতে নিবন্ধন করে হোমপেজে ঢুকলে দেখা যায়, সেখানে এনআইডি ক্রিয়েট, স্মার্ট এনআইডি ক্রিয়েট, জন্মনিবন্ধন ক্রিয়েট, অটো সাইন কপি, বায়োমেট্রিক অর্ডার, লোকেশন অর্ডার, কললিস্ট অর্ডার, মোবাইলে আর্থিক সেবা অ্যাপের অর্ডার, পাসপোর্টের এসবি কপি বিক্রি ইত্যাদির বিজ্ঞাপন দেওয়া রয়েছে। প্রতিটি সেবার জন্য আলাদা আলাদা ফি ও সময়সীমা উল্লেখ আছে।

কারও তিন মাসের সিডিআর কিনতে চাইলে খরচ হবে ১ হাজার ৫০ টাকা। আর ছয় মাসের সিডিআরের দাম ১ হাজার ২০০ টাকা।

এসব ওয়েবসাইট যাঁরা পরিচালনা করেন, তাঁরা ক্রেতাদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে গ্রুপ খুলে বার্তা আদান-প্রদান করেন।

মানুষের মুঠোফোনের গোপন তথ্য ফাঁস নিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম প্রথম আলোকে বলেন, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য এভাবে বিক্রি হওয়া, ফাঁস হওয়া চলতে দেওয়া যায় না। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত এই চক্রকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে।

সংস্থা প্রধান বললেন, ‘সিডিআর ঠিক আছে’

টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সরকারি একটি সংস্থার মহাপরিচালকের মুঠোফোন নম্বরের সিডিআর সংগ্রহের একটি ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে টাকা দেওয়া হয় ৬ সেপ্টেম্বর। ঘণ্টা পাঁচেকের মধ্যে সিডিআর চলে আসে।

৮ সেপ্টেম্বর ওই সংস্থা প্রধানের কাছে গেলে তিনি নিশ্চিত করেন, সিডিআর ঠিক আছে। তিনি বলেন, সিডিআর ফাঁস হওয়ার বিষয়ে তাঁর ধারণা ছিল। কিন্তু এত হালনাগাদ তথ্য হাত বাড়ালেই পাওয়া যাবে, সেটা তিনি ধারণা করেননি।

টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা দেখার দায়িত্বও তাদের।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য যদি এভাবে বিক্রি হয়, সেটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে মিলে বিটিআরসি কাজ করছে।

দায়ী কে

দেশের চারটি মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকসংখ্যা ১৯ কোটির কিছু বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ (২০২২) জনশুমারি ও গৃহগণনার তথ্য বলছে, দেশের পাঁচ বছরের বেশি বয়সীদের ৫৬ শতাংশ মানুষ মুঠোফোন ব্যবহার করেন।

একজন ব্যক্তি মুঠোফোনে কাকে কল করেন, কে তাঁকে ফোন করেন, কী কী খুদে বার্তা বিনিময় হয়—এসব তথ্য সংরক্ষণ করে মোবাইল অপারেটরগুলো। এ বিষয়ে তাদের আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সিডিআরে এসব তথ্য থাকে। এর সঙ্গে থাকে আইএমইআই (মুঠোফোনের শনাক্তকরণ নম্বর) এবং কল বা এসএমএসের সময় ব্যবহৃত মোবাইল টাওয়ারের তথ্য।

অপারেটরদের এই ডেটাবেজ বা তথ্যভান্ডার ব্যবহারের সুযোগ পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থাসহ ১২টি সংস্থা। অবশ্য সিডিআরে হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যাল, টেলিগ্রামসহ মুঠোফোন অ্যাপের তথ্য পাওয়া যায় না।

কীভাবে মানুষের তথ্য ফাঁস হয়, সে বিষয়ে বক্তব্য জানতে গ্রামীণফোন ও রবির কাছে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হয়। জবাবে দুই অপারেটরই তথ্যভান্ডারে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে বলে দাবি করেছে। এর বাইরে আইন অনুযায়ী শুধু অনুমোদিত ব্যক্তিদের এসব তথ্যে প্রবেশাধিকার রয়েছে বলেও জানায় তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি মোবাইল অপারেটরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, কিছু সরকারি সংস্থার নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা অপারেটরের অনুমোদিত প্রক্রিয়ার বাইরে সরাসরি তথ্যভান্ডারে প্রবেশের সুযোগ পান। এমনকি এ ক্ষেত্রে অপারেটরের কাছে আলাদাভাবে তথ্য চাওয়ারও প্রয়োজন হয় না।

মোবাইল অপারেটর সূত্র বলছে, কারা কীভাবে মানুষের তথ্য নিয়ে যাচ্ছে, তা বের করা সম্ভব। তবে দরকার সরকারের জোরালো উদ্যোগ।

‘সর্বোচ্চ’ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ‘দরকার’

তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান টেকগ্লোবাল ইনস্টিটিউটের (টিজিআই) গত মাসের এক প্রতিবেদন বলছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত বাংলাদেশে অন্তত ৬৮টি তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৬টি সরকারি ও ৩২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের।

ফাঁস হয়েছে মানুষের নানা ব্যক্তিগত তথ্য। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যভান্ডারের তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটে। ২০২৩ সালেও ৫ কোটি মানুষের এনআইডির তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছিল। এসব ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

২০২৩ সালের জুলাইয়ে তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয় বলে মন্তব্য করেছিলেন তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ। টিজিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপদ রাখার দায়িত্ব যেসব প্রতিষ্ঠানের, তাদের বেশির ভাগই তথ্য ফাঁসের ঘটনা সম্পর্কে জানত না। ঘটনার পর জবাবদিহি কিংবা শাস্তির নজির নেই।

নাগরিকদের মুঠোফোন-সংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্য বাণিজ্যিকভাবে ফাঁস ও বিক্রি হওয়ার ঘটনা পুরো ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অপব্যবহারের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের তথ্য বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে কারা এতে জড়িত, তা শনাক্ত করা উচিত। একই সঙ্গে তথ্য ফাঁসের সুযোগ তৈরি করা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে প্রযুক্তিগত ও কৌশলগতভাবে তা সংশোধন করতে হবে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ঢাকার বিষফোড়া ই-রিকশা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রিকশা ঢাকার ঐতিহ্য, বাঙালির গর্ব। কিন্তু সেই রিকশার নতুন সংস্করণ ই-রিকশা (ব্যাটারিচালিত রিকশা) এখন হয়ে উঠেছে নগরের ‘বিষফোড়া’। নিবন্ধন নেই, অনুমোদিত নকশা নেই, অধিকাংশ চালকের প্রশিক্ষণ বা লাইসেন্সও নেই-তবু অলিগলি ছাড়িয়ে প্রধান সড়কে, এমনকি উড়ালসড়কেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই যান। এতে সড়কে যানজটের পাশাপাশি ঘটছে দুর্ঘটনাও। রাজধানীতে কত ই-রিকশা চলছে, তার নির্ভরযোগ্য হিসাব নেই সরকারের কোনো সংস্থার কাছেই। তবে সংশ্লিষ্ট মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, বর্তমানে নগরীতে প্রায় ১২ লাখ ই-রিকশা (ইজিবাইকসহ) চলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণপরিবহণে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ও জোরালো ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা’র কোনো বিকল্প নেই; নতুবা হকার উচ্ছেদের মতো এই উদ্যোগও ব্যর্থ হয়ে যাবে। সমস্যা সমাধানে ঢাকাকে আটটি জোনে ভাগ করে রুট নির্ধারণসহ নতুন একটি নীতিমালার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশন।

দুই সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, ঢাকায় নিবন্ধিত প্যাডেলচালিত রিকশা প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১ লাখ ৮২ হাজার এবং উত্তরে ৩০-৩১ হাজার। এর বাইরে চলাচলকারী প্রায় সব রিকশাই অনিবন্ধিত। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের ২০১৯ সালের গবেষণায় ঢাকায় রিকশার সংখ্যা ছিল প্রায় ১১ লাখ। বর্তমানে ঢাকায় ই-রিকশার প্রকৃত সংখ্যা কত, তার কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে নেই। প্রতিদিন নতুন ই-রিকশা নামছে রাস্তায়। বিভিন্ন সংগঠনের নামে কথিত নম্বরপ্লেট দেওয়া হচ্ছে এবং নিয়মিত চাঁদাবাজিরও অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে বৈধ কর্তৃপক্ষের বাইরে ই-রিকশাকে ঘিরে সমান্তরাল এক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। জানা যায়, গত দেড় দশকে ই-রিকশা নিয়ে নিষেধাজ্ঞা, উচ্ছেদ অভিযান, আদালতের আদেশ ও নতুন নীতিমালার ঘোষণা এলেও কোনো উদ্যোগই স্থায়ী হয়নি। একদিকে স্বল্প দূরত্বে সাশ্রয়ী বাহন হিসাবে মানুষের চাহিদা, অন্যদিকে কয়েক লাখ চালক-মালিকের জীবিকা-এই বাস্তবতা সামনে রেখে সরকার কখনো কঠোর হয়েছে, আবার রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখে পিছিয়ে গেছে। ফলে সমস্যাটি এখন শুধু পরিবহণ ব্যবস্থাপনার নয়-এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতা, দুর্বল প্রয়োগ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়হীনতারও প্রতিচ্ছবি।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান যুগান্তরকে বলেন, ই-রিকশা আরও আগে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার ছিল। এখনই তা করা উচিত। তবে এজন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার। রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে যত উদ্যোগ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক না কেন, তাতে কোনো সুফল মিলবে না। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়ে হকার উচ্ছেদের ঘোষণা দিল। পরে আবার বলল, হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থান না করে তাদের উচ্ছেদ নয়। ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে এমন দুর্বল উদ্যোগ বরং সমস্যা আরও প্রকট করে তুলবে।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা. মোসলেহ উদ্দীন হাসান বলেন, রিকশা (প্যাডেলচালিত) আমাদের সংস্কৃতির অংশ। এটি আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে। আর ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলারকে ই-রিকশা বলা হলেও এটাকে আমি ‘রিকশা’ বলতে নারাজ। ওটা ম্যাকানিক্যাল থ্রি-হুইলার যানবাহন। এটার ব্যবস্থাপনা সেভাবেই করতে হবে। এটাকে রিকশা বলে সিম্প্যাথি (সহানুভূতি) নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, হুটহাট কিছু করলে ভালো ফল আসবে না। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে ফুটপাত হাঁটার উপযোগী করতে হবে এবং বাসে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। তাহলে মানুষ স্বল্প দূরত্বে হেঁটেই চলাচল করবে।

প্যাডেলচালিত রিকশা থেকে যেভাবে ই-রিকশার বিস্তার

দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা সূত্রে জানা যায়, ১৯৩৮ সালে সূত্রাপুরের একজন জমিদার ও ওয়ারীর একজন মাড়োয়ারি ব্যবসায়ী ছয়টি রিকশা ঢাকায় আনেন। ১৯৪৪ সালে নিবন্ধিত রিকশা ছিল ১০০টি, ১৯৪৮ সালে ৫৭৫টি এবং ১৯৭২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৩ হাজারে। ধীরে ধীরে রিকশা ঢাকার যাতায়াত ও অর্থনীতির অংশ হয়ে ওঠে। ২০১০ সালের পর চীন থেকে আমদানি করা ইজিবাইকের অনুকরণে স্থানীয়ভাবে প্যাডেলচালিত রিকশায় মোটর ও ব্যাটারি সংযোজন শুরু হয়। ২০১১ সালের দিকে ঢাকার সড়কে এ ধরনের যান দৃশ্যমান হয়। প্রথমদিকে এগুলো মূলত প্রান্তিক এলাকা ও অলিগলিতে সীমাবদ্ধ ছিল। মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, ২০১৪ সালে রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি।

ই-রিকশার সবচেয়ে বেশি বিস্তার ঘটে ২০২৪ সালে। ওই বছরের ১৫ মে ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর চালকরা বিক্ষোভে নামেন। পরে ১৯ মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের কথা উল্লেখ করে ওই সময়ের সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এগুলো চলতে দেওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু কোথায়, কতটি এবং কোন মানের রিকশা চলবে, তার কোনো কাঠামো তৈরি হয়নি। জুলাই-আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ট্রাফিক পুলিশের দুর্বল উপস্থিতির সুযোগে ই-রিকশা অলিগলি থেকে প্রধান সড়কে উঠে আসে। এরপর এগুলোর সংখ্যাও দ্রুত বাড়তে থাকে।

কালের কণ্ঠ

‘৩০০ ডিজিটাল প্রতারকের ফাঁদ’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের টার্গেট করে ডিজিটাল ফাঁদ পেতেছিল চীনা একটি প্রতারকচক্র। এর জন্য চক্রের অন্তত ৩০০ সদস্য অবস্থান নেন কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ এলাকার বিভিন্ন রিসোর্টে।

এসব রিসোর্টে তাঁরা ডিজিটাল ল্যাবও স্থাপন করেছিলেন। চক্রের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছিল বিশ্বাসের সম্পর্ক। এর জন্য দেখানো হচ্ছিল বিপুল মুনাফার লোভ। এভাবে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নেওয়ার তৎপরতা শুরু করেছিল চক্রটি।

প্রতারক এই চক্রের এসব ডিজিটাল প্রতারণার পরিকল্পনার কথা জানা গেছে পুলিশসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে। চক্রটির বিরুদ্ধে এরই মধ্যে কক্সবাজারের রামু থানায় আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্রতারণার মামলা করা হয়েছে। মামলাটি নিয়ে পুলিশ বিপুল পরিসরে তদন্ত শুরু করেছে। শুধু মেরিন ড্রাইভের রিসোর্ট নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে আছে চক্রটির নেটওয়ার্ক।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতারকচক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৯৪ জন চীনা নাগরিকের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কক্সবাজার পুলিশ চক্রটির আরো অন্তত ২৯৫ জন চীনা নাগরিকের পাসপোর্ট নম্বর সংগ্রহ করেছে।

এদিকে মেরিন ড্রাইভের রিসোর্টে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্রতারকচক্রের ঘাঁটির সন্ধান পেয়ে পুলিশ সদস্যরা সেখানে অভিযান চালিয়ে অন্তত পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় করা মামলার বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে নিয়েছে। এ জন্য পুলিশ সদর দপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের একটি দল রামু থানায় করা সাইবার মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের টিমটি দ্রুতই কক্সবাজারে আসবে বলে জানা গেছে। পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র গতকাল বুধবার বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছে। ওই সূত্র জানায়, কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের রিসোর্টে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্রতারকচক্রের সদস্যরা পরিপূর্ণভাবে তাঁদের অবৈধ কার্যক্রম শুরু করতে পারলে বড় ধরনের প্রতারণার ঘটনা ঘটে যেত। তার আগেই পুলিশ প্রতারকচক্রের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে দুই হাজার আইফোন ছাড়াও ল্যাপটপ-কম্পিউটার এবং নানা ধরনের ডিভাইসসহ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এতে মহাপ্রতারণার হাত থেকে বাংলাদেশসহ আরো তিনটি দেশ রক্ষা পেয়েছে।

কক্সবাজার পুলিশ গত ২৫ আগস্ট ও ৩ সেপ্টেম্বর পৃথক অভিযান চালিয়ে এক হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৫০টি মনিটর, ৪৪টি কম্পিউটার, ৩০টি কি-বোর্ড, দুটি ল্যাপটপ, ৪০টি মাউস, চীনা দুটি পতাকা, চীনা পুলিশের ব্যাজ, একটি ডায়েরিসহ পাঁচ চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘পিএসসির প্রশাসনের ছায়া নিয়োগে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আওতাভুক্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে নিয়োগ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে আহবায়ক করে কমিটি গঠন করেছে সরকার। নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় এই কমিটি কীভাবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কাজ দ্রুত করতে সহায়তা করবে তা স্পষ্ট নয়। ফলে জনপ্রশাসনেই এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এর আগে সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তরে নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর কমানো এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। এতে নিয়োগে স্বচ্ছতার ঘাটতি ও অনিয়মের আশঙ্কা করে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে সোচ্চার হয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। প্রসঙ্গ গড়িয়েছে সংসদেও

কৃষি গত রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জাকি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে আহবায়ক করা হয়েছে। সদস্য করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাই হবে কমিটির প্রধান কাজ। প্রয়োজনে নতুন সদস্য যুক্ত করতে পারবে কমিটি। প্রয়োজন অনুযায়ী বৈঠকও করতে পারবে তারা। কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এই পদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কৃষি মন্ত্রণালয়। তাদের অনুরোধে পিএসসি প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করেছে। বিসিএসের বাইরে এই নিয়োগও পিএসসির প্রাতিষ্ঠানিক কাজের অংশ। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদটি পিএসসির বৃহত্তর নন-ক্যাডার নিয়োগ কাঠামোর তাংশ। ফলে এই একটি পদের নিয়োগ ত্বরান্বিত করতে সরকারের পৃথক উচ্চপর্যায়ের কমিটি কেন প্রয়োজন- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা।


ইত্তেফাক

‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: টাকা ফেরত দেওয়া শুরু হলেও শাখাভিত্তিক জটিলতায় ভোগান্তি’—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু হলেও নানা শর্ত ও শাখাভিত্তিক জটিলতায় ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। নতুন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু হয়েছে। যদিও অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, প্রয়োজনমতো টাকা তুলতে গিয়ে শাখা পর্যায়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। টাকা তুলতে নিরূত্সাহিত করছেন কিছু ব্যাংক কর্মকর্তা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রাহকরা চাহিদা মতো টাকা তুলতে পারবে এমন আশায় গিয়ে অনেকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। শাখা পর্যায়ে টাকা তোলার ব্যাখ্যা চাওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী এক গ্রাহক গতকাল বলেন, নিজের জমানো টাকা তুলতে গিয়ে ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে কেন টাকা তুলব। ফিক্সড ডিপোজিটের মেয়াদ শেষ হলেও মুনাফা দেওয়া হবে না এমন তথ্য জানাচ্ছেন শাখা পর্যায়ের ব্যাংক কর্মকর্তারা। অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংকের সাথে বিগত সময়ে আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই-বাছাই করছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।

শরিয়াহভিত্তিক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠন করা হয় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার এ উদ্যোগ নেয়। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হলেও এখনো পাঁচ ব্যাংকের শাখাগুলো আলাদাভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সারা দেশে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের মোট শাখা রয়েছে ৭৬১টি।

সরকারি সিদ্ধান্তে গত সোমবার সব ধরনের আমানতকারীর টাকা ফেরতের প্রক্রিয়াটি শুরু করা হয়। এর আগে আমানত ফেরত নিতে আগ্রহী গ্রাহকদের কাছ থেকে ১-৬ সেপ্টেম্বর আবেদন সংগ্রহ করা হয়। ঐ সময়ের মধ্যে ৭৪ হাজার আমানতকারী ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে ব্যাংকটিতে আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনকারীদের ফোন করে জানানো হচ্ছে কবে তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানাগেছে, টাকা ফেরত দেওয়ার প্রথম দিন সোমবার ৫৫৩২ জন গ্রাহক ২৫৪ কোটি টাকা তোলেন। দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার ৭৮৯৬ জন গ্রাহক ৩২৭ কোটি টাকা তুলেছেন বলে জানা গেছে।

এ নিয়ে দুই দিনে ১৩ হাজার ৪২৮ জন গ্রাহক মোট ৫৮১ কোটি টাকা তুলতে পেরেছেন। তবে ভুক্তভোগী কিছু গ্রাহক জানিয়েছেন, তাদের টাকা তুলতে ব্যাংকের শাখাগুলো নিজেদের মতো করে দেওয়া ফর্মে আবেদন করতে হচ্ছে। সেখানে টাকা তোলার জরুরি কারণ এবং কেনো টাকা তোলা হবে সে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। কেউ চিকিত্সার জন্য টাকা তুলতে চাইলে চিকিত্সার বিস্তারিত কাগজ-পত্র জমা দিতে বলা হচ্ছে। গ্রাহকরা বলছেন, ফিক্সড ডিপোজিটের টাকা মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে তুলতে গেলে মুনাফা দেওয়া হবে না এমনটাই জানানো হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ছিল, ফিক্সড ডিপোজিট মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তুললে মুনাফা দেওয়া হবে না। মেয়াদ শেষ হলে তারা মুনাফা পাবেন। অথচ মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও ব্যাংক কর্মকর্তারা মুনাফা না দেওয়ার কথা জানাচ্ছে। এজন্য অনেকেই টাকা তুলতে গিয়েও ফিরে আসছেন।

এদিকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আমানতের অর্থ ফেরত দিতে ব্যাংকটিকে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো গ্রাহক যেন খালি হাতে ফেরত না যান, সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে ব্যাংকটিকে। এখন মুনাফা কেটে রাখায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক গ্রাহক।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘সৌর-বিপ্লবের সুযোগ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌরবিদ্যুতের প্রযুক্তিতে নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন শুরু হয়েছে। এতদিন সূর্যের আলোকে বিদ্যুতে রূপান্তরের প্রায় পুরো শিল্পই নির্ভর করেছে সিলিকনভিত্তিক ফটোভোলটাইক বা পিভি প্রযুক্তির ওপর। এখন সেই ব্যবস্থার ওপর নতুন একটি স্তর বসিয়ে একই জায়গা থেকে আরো বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেষ্টা চলছে। প্রযুক্তিটির নাম পেরোভস্কাইট-সিলিকন ট্যান্ডেম সোলার সেল।

এখানেই বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিদ্যুৎচাহিদা বাড়ছে, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়বহুল ও আমদানিনির্ভর এবং বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য জমি পাওয়া ক্রমেই কঠিন হচ্ছে। ফলস্বরূপ, ‘কম জমিতে বেশি বিদ্যুৎ’ বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি কৌশলের একটি অপরিহার্য লক্ষ্য হওয়া উচিত।

বাংলাদেশের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ডাটাবেজ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে দেশে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ছিল প্রায় এক হাজার ৪৪৯ মেগাওয়াট; যার প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থাৎ এক হাজার ১৫৫ মেগাওয়াটই ছিল সৌরনির্ভর। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সৌরশক্তির ওপর একটি মজবুত নির্ভরতার ভিত্তি তৈরি করেছে। এখন মূল প্রশ্ন হলো- পরবর্তী পর্যায়ে সেই সৌরব্যবস্থাকে আরো দক্ষ করা যাবে কি না।

পেরোভস্কাইট কী ও কেন এত আলোচনা?

পেরোভস্কাইট কোনো একটি নির্দিষ্ট ধাতু বা খনিজের নাম নয়; এটি একটি বিশেষ স্ফটিক কাঠামো, যার বিভিন্ন রাসায়নিক সংমিশ্রণ সৌরকোষে ব্যবহার করা যায়। প্রাকৃতিক পেরোভস্কাইট খনিজের নামকরণ করা হয়েছিল রুশ খনিজবিদ লেভ পেরোভস্কির নামে।

সৌরবিদ্যায় এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো- এর আলোক শোষণ বৈশিষ্ট্য প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা যায়। ফলে সিলিকন যে আলোক-বর্ণালির অংশ সবচেয়ে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না, পেরোভস্কাইটকে ঠিক সেই অংশের উপযোগী করে ডিজাইন করা সম্ভব। এখান থেকেই আসে ট্যান্ডেম প্রযুক্তির ধারণা।

উপরের পেরোভস্কাইট স্তর সূর্যের অপেক্ষাকৃত উচ্চশক্তির আলো (বিশেষ করে নীল ও সবুজ অংশ) শোষণ করে, আর নিচের সিলিকন স্তর অপেক্ষাকৃত কম-শক্তির আলো ব্যবহার করে। ফলে একই সূর্যালোক থেকে দুই স্তর মিলিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়। সিলিকনের একক জংশন সেলের তাত্ত্বিক দক্ষতার সীমা প্রায় ৩০ শতাংশের নিচে হলেও পেরোভস্কাইট-সিলিকন ট্যান্ডেমের তাত্ত্বিক দক্ষতা ৪৩ শতাংশের বেশি হতে পারে। তবে তাত্ত্বিক দক্ষতা আর বাজারে প্রচলিত বাস্তব প্যানেলের কার্যকারিতা এক নয়।

বণিক বার্তা

‘বিপুল জনবল, উৎপাদনে নেই ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র’—এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ঘোড়াশালসহ বিপিডিবির বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে না থাকা কিংবা বছরের বেশির ভাগ সময় বসে থাকায় সামগ্রিকভাবে সংস্থাটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সংস্থার নিজস্ব কেন্দ্রের বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি উৎপাদন ব্যয় ছিল গড়ে ৮ টাকা ৪৭ পয়সা, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ২৬ পয়সায়।

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ২১০ একর জমির ওপর অবস্থিত ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ১ হাজার ৩১৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার এ কেন্দ্রে ইউনিট আছে সাতটি। গ্যাস সংকট, ইউনিট সংস্কার এবং কার্যক্ষমতা বিবেচনায় ঘোড়াশাল কেন্দ্রের পুরোটাই মাসের পর মাস বসে থাকছে। পেট্রোবাংলার গতকালের গ্যাস সরবরাহ প্রতিবেদনেও কেন্দ্রটিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সঞ্চালন সংস্থা পাওয়ার গ্রিডের তথ্যেও দেখা যায় গত ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঘোড়াশালের কোনো ইউনিট উৎপাদনে ছিল না। এর পেছনে গ্যাস সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করেছে পাওয়ার গ্রিড।

কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও সেটি পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি) বিপুলসংখ্যক জনবল টানতে হচ্ছে। বর্তমানে ঘোড়াশাল কেন্দ্রে বিপিডিবির জনবল ৭৫০ জন। এর বাইরে আউটসোর্সিং, বিভিন্ন ইউনিটের সাইটে কর্মরত লোকবল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট ও আনুষঙ্গিক কাজে জড়িতদের যোগ করলে জনবল সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার হয়। যাদের বেশির ভাগের ব্যয় বিপিডিবির আর্থিক খাত থেকে মেটাতে হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

দেশের বিদ্যুৎ খাতে বিপিডিবি লোকসানি প্রতিষ্ঠান। প্রতি বছর সরকারের কাছ থেকে বড় ভর্তুকি নিয়ে সংস্থাটি পরিচালিত হচ্ছে। বিপিডিবির প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াট নিজস্ব বিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকলেও গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাত্র ১৩ শতাংশ। স্বল্প বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সংস্থার এত জনবল বসিয়ে রেখে বেতন-ভাতা দেয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনায় আর্থিকভাবে দুর্বল বিপিডিবিকে ব্যয় সাশ্রয়ী পথ বেছে নেয়া উচিত বলে মনে করেন জ্বালানি খাত বিশেষজ্ঞরা। সংস্থাটির কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে কীভাবে জনবল কমানো যায়, সেই উদ্যোগ নেয়ার কথা বলছেন তারা। ঘোড়াশালের মতো একটি বৃহৎ কেন্দ্রে, যেখানে কোনো উৎপাদন নেই, কেন এত জনবল বিপিডিবিকে টানতে হবে—এমন প্রশ্ন তাদের। বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বিপিডিবির আরো দক্ষ হওয়া দরকার।

বেসরকারি উদ্যোক্তা ও বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্যাসভিত্তিক ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালাতে প্রকৌশলী, ব্যবস্থাপক, তত্ত্বাবধায়ক, আবাসিক ও নিরাপত্তা কর্মী মিলিয়ে ৩০০ লোকবল প্রয়োজন। যেখানে ২০০ জন বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট, বাকিরা নিরাপত্তায় নিযুক্ত। সে হিসাবে ঘোড়াশালে জনবল নিয়োজিত রয়েছে আট গুণের বেশি। এ বিপুলসংখ্যক কর্মীর বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন ব্যয় দিনশেষে বিপিডিবিকে বহন করতে হয়।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘মৌখিকের নম্বর বৃদ্ধির উদ্যোগ: ক্ষোভ, উদ্বেগ চাকরিপ্রার্থীদের’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে (তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি) নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগে চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উদ্বেগ জানিয়েছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরাও। তাঁদের আশঙ্কা, লিখিত পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ বাড়তে পারে। ‘পছন্দের’ প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর দিয়ে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এই উদ্যোগের প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার রাতে ও গতকাল বুধবার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদ, ক্ষোভ ও উদ্বেগ সরকারের ‘মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও ইহাদের আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর এবং সংস্থাসমূহের ১১-২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষার মান বণ্টন (বিশেষ বিধান) বিধিমালা, ২০২৬’ করার উদ্যোগের খবরে। প্রস্তাবিত বিধিমালায় গ্রেডভেদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এনে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বর্তমানের চেয়ে বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

অবশ্য জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী গতকাল বুধবার বলেন, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির (১১ থেকে ২০তম গ্রেড) নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নেয়। সব পরীক্ষা একসঙ্গে করে একটি পদ্ধতিতে আনার চিন্তা করা হচ্ছে। তবে এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা খসড়া ওই বিধিমালায় প্রস্তাব করা হয়েছে, ১১-১২তম গ্রেডে নিয়োগ পরীক্ষায় মোট নম্বর হবে ১৫০। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় ১০০ (বাংলায় ২৫, ইংরেজিতে ২৫, গণিতে ২৫ এবং প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল বা সাধারণ জ্ঞানে ২৫ নম্বর) এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৫০ নম্বর থাকবে। লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৩৫ শতাংশ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৪০ শতাংশ। ১৩-১৬তম গ্রেডে দুই পরীক্ষার মোট নম্বর হবে ১০০। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় ৬০ (বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল বা সাধারণ জ্ঞানে ১৫ নম্বর করে) এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৪০ নম্বর। লিখিত ও মৌখিক—উভয় পরীক্ষাতেই পাস নম্বর ৪০ শতাংশ। ১৭-২০তম গ্রেডে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর হবে ২৫ করে। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল বা সাধারণ জ্ঞানে ৫ নম্বর করে থাকবে। লিখিত ও মৌখিক—উভয় পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪০ শতাংশ।

খসড়া বিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাঁর জন্য ব্যবহারিক পরীক্ষা নির্ধারিত থাকলে তাঁকে সেই পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হতে হবে। প্রস্তাবিত বিধিমালা শৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, ব্যাটালিয়ন আনসার, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, র‍্যাব বা অন্য কোনো বাহিনী এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আওতাধীন কোনো পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

দেশ রূপান্তর

‘রাশিয়ারও নজর এবার বাংলাদেশে’—এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যে আমেরিকার পর এবার রাশিয়া প্রবেশের চেষ্টা করছে। বঙ্গোপসাগরের একই স্থানে আমেরিকা ও রাশিয়াকে প্রকল্প করার সুযোগ করে দেওয়া বাংলাদেশের জন্য কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সব দিক বিবেচনা করে সরকারের এগোনো উচিত। সরকারের কূটনৈতিক দক্ষতার ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে বলে তারা মনে করছেন। এই উদ্যোগ কার্যকর হলে এটি হবে দেশের চতুর্থ এলএনজি টার্মিনাল।

পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, মহেশখালীতে এলএনজি খালাস করার জন্য একটি গ্র্যাভিটি-বেইজড স্ট্রাকচার (জিবিএস) স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে নোভাটেক মিডলইস্ট ডিএমসিসি। পেট্রোবাংলার কাছে গত ৩ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটি প্রস্তাব দেয়। কোম্পানিটির ৩২ স্ল্যাইডের প্রেজেন্টেশনে দেখা যায়, জিবিএস নির্মাণের অর্থায়ন, এলএনজি ক্রয়, টার্মিনাল উন্নয়ন এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে চায় নোভাটেক মিডলইস্ট ডিএমসিসি।

নোভাটেক মিডলইস্টের এ ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে কি না খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, তাদের জিবিএস স্থাপনের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, রাশিয়াতেও একই নামে একটি কোম্পানি রয়েছে। পেট্রোবাংলার কাছে যে প্রেজেন্টেশন নোভাটেক মিডলইস্ট দিয়েছে, সেখানে কোম্পানির যে লোগো ব্যবহার করা হয়েছে, রাশিয়ার নোভাটেক কোম্পানির লোগোও একই। একই নাম ও লোগোর কারণে নোভাটেক মিডলইস্ট এবং রাশিয়ার নোভাটেক পরস্পর সম্পর্কযুক্ত বলে ধারণা করা যায়। ২০২৩ সালের ২৯ জুন করা একটি চুক্তিতে রাশিয়ার নোভাটেককে লাইসেন্সদাতা এবং নোভাটেক মিডলইস্ট ডিএমসিসিকে লাইসেন্সগ্রহীতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে কোম্পানি দুটি যে একই মালিকানাধীন, তা প্রমাণিত। এ ছাড়া, সামাজিক মাধ্যমে নোভাটেক মিডলইস্টের কয়েকজন কর্মকর্তার প্রোফাইল পাওয়া গেছে। তাদের রুশ ভাষাজ্ঞান এবং আগের কর্মস্থল হিসেবে মস্কোর উল্লেখ রয়েছে।

সূত্র জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর নোভাটেক মিডলইস্ট তাদের প্রেজেন্টেশন পেট্রোবাংলায় দিয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাতে রাজি হননি পেট্রোবাংলার শীর্ষ একজন কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, এ ধরনের প্রেজেন্টেশন তো অনেকেই দিতে পারেন।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় প্রতি মাসে এখন ১০ কার্গো এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। ভবিষ্যতে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এলএনজি আমদানির পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে। এখন খোলা বাজার থেকে প্রতি কার্গো এলএনজি আমদানি করতে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। সেই হিসাবে মাসে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানি করতে হয়। দাম এমন থাকলে বছরে প্রায় ৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি আমদানি করতে হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে এলএনজি সরবরাহ শুরু হলে এই ব্যয় কমে আসতে পারে।

নোভাটেক মিডলইস্টের প্রস্তাবে কী আছে : নোভাটেক তাদের প্রস্তাবে বলছে তারা মহেশখালীতে একটি গ্র্যাভিটি-বেইজড স্ট্রাকচার (জিবিএস) নির্মাণ করতে চায়। প্রস্তাবে বলা হয়েছে সমুদ্রের তলদেশে বসানো বিশাল কংক্রিটের কাঠামোর ওপর তৈরি হবে স্থায়ী টার্মিনাল। ফলে এটি ভাসমান টার্মিনালের মতো ঢেউ বা ঝড়ের সঙ্গে দুলবে না। জিবিএস টার্মিনালে এক মাসের গ্যাসের মজুদ রাখা যাবে। এখান থেকে ছোট কার্গোতে করে এলএনজি দেশের আরও চারটি স্থানে সরবরাহ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এই প্রস্তাবে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘জামিন আদেশ জালিয়াতিতে ভয়ংকর সিন্ডিকেট’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের সর্বোচ্চ আদালত ঘিরে সক্রিয় জামিন-আদেশ জালিয়াতির একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। আদালতের আদেশ পরিবর্তন, ভুয়া নথি সংযুক্ত করা, তথ্য গোপন করে জামিন নেওয়া, জাল আদেশ তৈরি, ভিন্ন মামলার নথি ব্যবহার করে আসামি কারামুক্ত করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে; যার পরিপ্রেক্ষিতে দাগি আসামিরা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এদের বড় একটি অংশ আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে আদালতের প্রতি জনসাধারণের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছরে জামিনসংক্রান্ত বেশ কিছু জালিয়াতি সামনে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রিট মামলায় এ-জাতীয় ঘটনা ধরা পড়ছে। তবে ঘটনাগুলোর বিষয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা না নেওয়ায় মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব জালজালিয়াতির ঘটনায় আদালতের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি আইনজীবী, আইনজীবী সহকারী, কম্পিউটার ও ফটোকপি দোকানের মালিক-কর্মচারীদেরও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ চক্রের নেটওয়ার্ক শুধু সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয়, অধস্তন আদালত থেকে কারাগার পর্যন্ত বিস্তৃত। জামিন জালিয়াতির অধিকাংশ ঘটনায় অধস্তন আদালতের আইনজীবী ও আইনজীবী সহকারীর সঙ্গে উচ্চ আদালতের আইনজীবী ও আইনজীবী সহকারীর সংশ্লিষ্টতাও পাওয়া গেছে। জামিন জালিয়াতির ২৭ মামলার তদন্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দেওয়া অভিযোগপত্রেও এমন তথ্য মিলেছে। সংস্থাটি এসব জালিয়াত চক্রে ৩০ ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জামিন আদেশ জালিয়াতি সাধারণ কোনো প্রতারণা নয়। এটি সমন্বিত অপরাধপ্রক্রিয়া। প্রথমে চক্রের সদস্যরা এমন আসামি বা তাদের স্বজনদের খুঁজে বের করেন যাদের জামিন পাওয়া কঠিন অথবা যারা দীর্ঘদিন কারাগারে রয়েছেন। এ ছাড়া যেসব স্বজন অনেক বেশি টাকার বিনিময়ে হলেও আসামির দ্রুত মুক্তির নিশ্চয়তা চান, তাদের টার্গেট করেন। বিশ্বাস অর্জনের জন্য ইতঃপূর্বে জালিয়াতির মাধ্যমে জামিন পাওয়া দাগি আসামিদের উদাহরণ দেওয়া হয়। দুই পক্ষ একমত হলে পরবর্তী ধাপে মামলার নথি, এফআইআর, চার্জশিট, নিম্ন আদালতের আদেশ, সত্যায়িত অনুলিপি কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়। চক্রের সদস্যরা কখনো এসব নথিতে পরিবর্তন আনেন, কখনো ভিন্ন মামলার নথি ব্যবহার করেন, আবার কখনো আদালতের আদেশে অতিরিক্ত তথ্য সংযুক্ত বা বাদ দিয়ে দেন। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে আদালতের আদেশ জারির পর তা পরিবর্তন করেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জামিন বা আদেশ জালিয়াতির ঘটনায় বিভিন্ন সময় সুপ্রিম কোর্ট যেসব মামলা করেছেন, সেগুলোর সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে তা জানাতে পারেননি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন জানান, নানা সীমাবদ্ধতার কারণে মামলাগুলো যথাযথভাবে তদারকি করতে পারছেন না তারা। তবে এসব মামলার নিয়মিত মনিটরিংয়ে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গকারীদের যথাযথ শাস্তি না হওয়ায় জালজালিয়াতি বন্ধ হচ্ছে না বলে মনে করেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা। কঠোর শাস্তি হলে এ-জাতীয় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

একের পর এক ঘটনায় সামনে আসে চক্র: গত এক বছরে কয়েকটি ঘটনায় জামিন জালিয়াতির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)-সংশ্লিষ্ট একটি মামলার আসামির জামিনসংক্রান্ত কারসাজি। অভিযোগ ওঠে, শুনানিতে উপস্থাপিত তথ্য এবং পরবর্তী লিখিত আদেশের মধ্যে অসংগতি ছিল। মামলার তথ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে একজন আসামি কারামুক্ত হয়েছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন তদন্ত শুরু করেন এবং সংশ্লিষ্ট এক বেঞ্চ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলছে। এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে ফৌজদারি মামলাও করা হয়েছে। এ ছাড়া গত ডিসেম্বরে একটি রিট মামলায় হাই কোর্টের আদেশ জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসে। ইটভাটাসংক্রান্ত এক মামলায় শুধু রুল জারি করা হলেও আদেশে রুলের সঙ্গে স্থগিতাদেশ যুক্ত করে ‘ইট উৎপাদন অব্যাহত থাকবে’ এ লাইন জুড়ে দিয়ে তিন পার্বত্য জেলায় ইটভাটা সচল রেখেছিলেন ৫১ ইটভাটার মালিক। জালিয়াতি করে তৈরি আদেশে আবেদনকারীর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে অতিরিক্ত ১৯ জনের নাম। এ ছাড়া জালিয়াতি করা আদেশে মামলাসংশ্লিষ্ট নন, এমন বহিরাগতদেরও করা হয় হাই কোর্টের মামলায় বাদী। পাল্টানো হয় আদেশের তারিখ। তবে শেষরক্ষা হয়নি। জালিয়াতির এ ঘটনা ধরা পড়ে হাই কোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে। হাই কোর্ট বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দিয়েছেন।