তদন্ত চলে বছরের পর বছর

দুদকে অনুসন্ধান

তদন্ত চলে বছরের পর বছর

ফন্ট সাইজ:

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তদন্তের বোঝা। জমে থাকা অভিযোগ বাছাই, অনুসন্ধানকৃত অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং তদন্তাধীন মামলার চার্জশিট প্রদান। গত পাঁচ মাসে ৩ হাজার ৫০০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। চলমান আছে ১ হাজার ৪৩৪টি অভিযোগের অনুসন্ধান। পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে তদন্তাধীন হাজারো মামলার তদন্ত। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর এসব অভিযোগ ও অনুসন্ধানের কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তি করার দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকা মামলাগুলোও নিষ্পত্তিতে জোর দিতে হবে নতুন কমিশনকে।

দুদকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ৩০শে জুন পর্যন্ত ৮ হাজার ২২৫টি দুর্নীতি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৩৮টি নিম্ন আদালতে এবং ৪ হাজার ৮১৬টি হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে বিচারাধীন। ফলে একদিকে নতুন অভিযোগের অনুসন্ধান, অন্যদিকে পুরনো মামলার তদন্ত ও বিচার সবমিলিয়ে নতুন কমিশনের সামনে কাজের পরিধি বেশ বড়।

দুদকের নতুন কমিশনের দায়িত্ব নেয়ার পর দুর্নীতির অভিযোগ দ্রুত যাচাই, অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষ করে অভিযোগ নিষ্পত্তির পাশাপাশি তদন্তাধীন মামলাগুলোর অগ্রগতি বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে দুদকের সাবেক মহাপরিচালক (লিগ্যাল) মইদুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহিতার অভাবেই দেশের আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতির মামলার তদন্তও নির্ধারিত সময়ে শেষ হয় না। একটি মামলার তদন্ত শুরু হওয়ার পর আইনি জটিলতা, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নথিপত্র না পাওয়াসহ নানা কারণ দেখিয়ে তদন্তের সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়। কিন্তু এসব আবেদনের যথাযথ পর্যালোচনা ও তদন্তের অগ্রগতি যাচাই না করেই অনেক ক্ষেত্রে সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়। তিনি বলেন, বহু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তের ভার ও জটিলতার কথা বলে বছরের পর বছর সময় পার করে দেন। অথচ দীর্ঘদিন তদন্ত ঝুলে থাকলে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলামত ও তথ্য-প্রমাণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সাবেক জেলা ও দায়রা জজ ড. আবুল হোসেন খন্দকার মানবজমিনকে বলেন, দীর্ঘসূত্রতা কমাতে প্রতিটি আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে দুদকের মুখপাত্র ও উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম বলেন, দুদক সবসময়ই অনুসন্ধান ও মামলার তদন্ত যথাসময়ে শেষ করতে সচেষ্ট থাকে। তবে অনেক ক্ষেত্রে কমিশন চাইলেও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, তথ্য ও নথি যথাসময়ে পাওয়া যায় না। এতে তদন্ত কর্মকর্তাদের কাজ এগিয়ে নিতে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয় এবং তদন্ত শেষ করতে সময় কিছুটা বেশি লাগে।

তিনি বলেন, কোনো মামলার তদন্তে বিভিন্ন দপ্তর থেকে ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেনের তথ্য, সম্পদের নথিপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হয়। এসব নথি সময়মতো না পেলে তদন্ত কর্মকর্তা চাইলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে পারেন না। আক্তারুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে অনেক তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ৩০টিরও বেশি অনুসন্ধান ও মামলার ফাইল রয়েছে। একজন কর্মকর্তার পক্ষে এত বিপুলসংখ্যক ফাইল একসঙ্গে সামলানো এবং সবগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্ত নির্ধারিত সময়ে শেষ করা বাস্তবিকভাবেই কঠিন। তবে নতুন কমিশন আসার পর তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে এবং মামলাগুলোর দীর্ঘসূত্রতা কমাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে।