চট্টগ্রামে বন্দরের নির্দেশনা না মানায় চার শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরের লাইসেন্স স্থগিত

চট্টগ্রামে বন্দরের নির্দেশনা না মানায় চার শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরের লাইসেন্স স্থগিত

ফন্ট সাইজ:

জাহাজ বণ্টন-সংক্রান্ত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন না করার অভিযোগে চারটি শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরের লাইসেন্সের তালিকাভুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- মেসার্স শী কোস্ট শিপিং অ্যান্ড ট্রেডিং লিমিটেড, মেসার্স ইউনিয়ন ট্রেডার্স, মেসার্স প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং মেসার্স বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাইসেন্স ও কাজের অনুমতি পাওয়া শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের মধ্যে জাহাজ বণ্টনের ক্ষেত্রে বন্দর কর্তৃপক্ষের দেয়া নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট চার প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে প্রতিপালন করেনি। তাদের এ কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর নীতিমালা-২০১৫-এর অনুচ্ছেদ ‘গ’-এর ৭.৪ ধারার পরিপন্থি।

এ কারণে চবক বোর্ডের গত ২৭শে জুলাইয়ের সিদ্ধান্তের আলোকে প্রতিষ্ঠান চারটির শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর লাইসেন্সের তালিকাভুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহাজ বরাদ্দ ও শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের কৈফিয়ত তলব ও সতর্ক করলেও সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের সংগঠন নিয়েও বিরোধ রয়েছে। শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী ‘বার্থ অপারেটরস, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটর্স ওনার্স এসোসিয়েশন’কে ২০১০ সালের ২৮শে এপ্রিল ট্রেড ইউনিয়ন হিসেবে নিবন্ধন দেয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে ‘বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস এসোসিয়েশন’ ওই নিবন্ধন বাতিলের জন্য রিট দায়ের করে। তবে শ্রম অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বিভাগ ২০১৬ সালের ১৩ই জুন ‘বার্থ অপারেটরস অ্যান্ড শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটর ওনার্স এসোসিয়েশন’, রেজি. নম্বর ২৫৪৬-কে আইনসম্মত ঘোষণা করে। পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, আইনগত এখতিয়ার না থাকা সত্ত্বেও অপর সংগঠনটি চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন কার্যক্রম এবং শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর কমিটি পরিচালনা করছে।

জাহাজ বরাদ্দের বিষয়েও সংগঠনটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। চবকের বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের পর নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে নিয়ন্ত্রক হিসেবে থাকা চারটি প্রতিষ্ঠানের শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর লাইসেন্সের তালিকাভুক্তি সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে মেসার্স ডিভি হাজী আবদুল আজিজ অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মান্নান রানা বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও একটি চক্র আমার প্রতিষ্ঠানকে জাহাজ বরাদ্দ দেয়নি। আমি আশা করছি, বন্দর কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জাহাজ বরাদ্দসহ ন্যায়বিচার পাবো। তিনি আরও বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানটি ১৯৫৭ সালের দিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের তালিকাভুক্ত ২ নম্বর প্রতিষ্ঠান ছিল। দেরিতে হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তকে আমি সাধুবাদ জানাই। চবকের সিদ্ধান্তের অনুলিপি ডেপুটি ট্রাফিক ম্যানেজার (অপারেশন্স), চবক চেয়ারম্যানের পিএস, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস এসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনকে পাঠানো হয়েছে।