পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন শহরে খাদ্যনিরাপত্তা অভিযান চালিয়ে পচা, বাসি, নষ্ট হয়ে যাওয়া ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী খুঁজে পাওয়া গেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা অনুযায়ী পচা, বাসি, নষ্ট হয়ে যাওয়া ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী খুঁজে বের করে দোষীদের শাস্তির উদ্দেশ্যে এই অভিযান। খাদ্যসুরক্ষা বিধি মেনে চলা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে গত এক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিকভাবে কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযান চলেছে কলকাতা পুরসভা এলাকার বিভিন্ন নামিদামি রেস্তরাঁ ও বিভিন্ন নামি শপিং মলের ফুড কোর্টেও। কলকাতা পুরসভা এখনো পর্যন্ত ৪০টি রেস্তরাঁ ও খাদ্য বিপণির ঝাঁপ বন্ধ করে দিয়েছে। সাময়িকভাবে লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে।
কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, ঝাঁপ বন্ধের তালিকায় রয়েছে নিজামস, করিম’স, বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক, মিষ্টিমুখ, আরসালান, শিমলা বিরিয়ানিসহ কয়েকটি নামি রেস্তরাঁ ও খাদ্যবিপণি। কোথাও পচা-বাসি মাংস, কোথাও ছত্রাক ধরা মিষ্টি, কোথাও আবার নিম্নমানের মসলায়, নিষিদ্ধ রং ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে বলে পুরসভার সূত্রে জানা গিয়েছে। কলকাতার বিভিন্ন শপিং মলের ফুড কোর্টে পাওয়া গিয়েছে নষ্ট মাছ-মাংস। ফ্রিজে রাখা খাসি ও মুরগির মাংসও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
বিভিন্ন রেস্তরাঁর রান্নাঘরের পরিবেশ খুবই অস্বাস্থ্যকর হিসেবে ধরা পড়েছে। এদিকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার রেস্তরাঁ, খাদ্যদ্রব্য বিক্রির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান, মিষ্টির কারখানাগুলোতে অভিযান চালিয়ে মিলেছে প্রচুর মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী, পাওয়া গেছে পচা, বাসি ও মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টি।
বহু খাদ্যদ্রব্য ও মিষ্টিতে মেশানো হয়েছে কৃত্রিম রং, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। একটি দোকান থেকে ৪৭০ টিন ভেজাল সয়াবিন তেল উদ্ধার করে তা জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ভেজাল ঘি, ছানা ও দইও।
খাদ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভেজালবিরোধী অভিযানে খাদ্য সুরক্ষা লঙ্ঘনের ভয়াবহ ছবি উঠে এসেছে। কিন্তু এই নজরদারি বছরভর চালানো দরকার।
