নেত্রকোণায় ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার কথা বলে টাকা নেয়ার অভিযোগে সাদিয়া ইসলাম (২৩) নামের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র এক নেত্রীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার বিকালে তাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহ পরানের আদালতে তোলা হলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে গত মঙ্গলবার বিকালে পৌর শহরের বলাইনগুয়া মীরবাড়ি রোড এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয় লোকজন। পরে বুধবার সকালে প্রিয়া আক্তার নামে এক ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। সাদিয়া সদর উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে। নেত্রকোণা সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া জেলা এনসিপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাদিয়া কয়েকজনকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা করে নেন। গত মঙ্গলবার বিকালে কুড়পাড় এলাকায় আরও একজনের কাছ থেকে টাকা নিতে গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। এ ঘটনায় সকালে পৌর শহরের বলাইগুয়া চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়ার স্ত্রী প্রিয়া আক্তার (২৬) বাদী হয়ে নেত্রকোণা মডেল থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেন। প্রিয়া আক্তার বলেন, এনসিপি নেত্রী আমিসহ পাঁচজনের কাছে ফ্যামিলি কার্ড করে দেবেন বলে ভুল বুঝিয়ে পাঁচ হাজার টাকা চান। পরে তিনি আমাদের পাঁচজনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকালে আমাকে আরও দুই হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানান এবং পরদিনই আমার ফ্যামিলি কার্ড হয়ে যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন। এভাবে তিনি আরও কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিতে এলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে। তিনি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। আমরা না বুঝে তাকে টাকা দিয়েছি।
এ জন্য বিচার চেয়ে মামলা করেছি। সদর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন ফারাস সেন্টু বলেন, ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগে এনসিপি’র ওই নেত্রীকে পুলিশ আটক করেছে বলে তিনি শুনেছেন। তিনি বলেন, সদর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি। এ ধরনের কার্ড দেয়ার কথা বলে কেউ টাকা চাইলে তাকে পুলিশে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাদিয়ার পক্ষে এনসিপি’র জেলা কমিটির সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। মনে হয়, সাদিয়া চক্রান্তের শিকার। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হতে পারে।
তবে টাকা নেয়ার অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয় তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। নেত্রকোণা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, সাদিয়াকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রিয়া আক্তার, সুমি আক্তার, ইতি আক্তারসহ পাঁচজনের কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছেন। এ ঘটনায় প্রিয়া আক্তার মামলা করেছেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাদিয়া কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান ওসি।
