পাবনায় ডিসি’র ব্যতিক্রমী উদ্যোগ লটারিতে বদলি

ফন্ট সাইজ:

সরকারি দপ্তরে বদলি নিয়ে তদবির, প্রভাব কিংবা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নতুন নয়। সেই জায়গায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকা রাজস্ব প্রশাসনের কর্মচারীদের বদলি করা হয়েছে প্রকাশ্য লটারির মাধ্যমে। এতে কে কোথায় যাবেন-সিদ্ধান্ত হয়েছে ভাগ্যের লটারিতে, কোনো তদবিরে নয়। বুধবার পাবনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রকাশ্য লটারির মাধ্যমে ৫৩ জন কর্মচারীকে বিভিন্ন কর্মস্থলে বদলি করা হয়। একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করা কর্মচারীদের এই বদলির আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রকাশ্য লটারিতে বদলির এ পদ্ধতিকে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে ব্যক্তিগত তদবির কিংবা প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের কর্মস্থলে যাওয়ার সুযোগ অনেকটাই বন্ধ হয়েছে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কাজের সমন্বয় এবং জনসাধারণের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

তার কাছে সেবা নিতে আসা মানুষ যেন হয়রানি বা অযথা ঘোরাঘুরির শিকার না হন-এ বিষয়েও রয়েছে বিশেষ নজর। লটারির মাধ্যমে ৫৩ কর্মচারীর বদলি কিংবা দরজা খোলা রেখে সাধারণ মানুষের কথা শোনা-দুটি ঘটনাই যেন একই বার্তা দেয়। প্রশাসনে স্বচ্ছতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ ও মানবিকতা। আর সেই জায়গা থেকেই পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম ধীরে ধীরে হয়ে উঠছেন ‘জনবান্ধব ডিসি’।