বৃটেনে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত ত্রুটির জেরে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দিনের মতো বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। এর মধ্যে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।
এভিয়েশন অ্যানালিটিকস প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দেশটিতে এয়ারলাইনগুলো ৩২৭টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এর আগে মঙ্গলবার একই ত্রুটির কারণে ১ হাজার ৭৫০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল। এতে কয়েক হাজার মানুষের ভ্রমণ পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।
বৃটেনের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাটস এ ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছে। বুধবার বিকেলে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের কার্যক্রম ‘স্থিতিশীল’ রয়েছে। গত তিন বছরে এটি ন্যাটসের তৃতীয় বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি। কী কারণে এ সমস্যা হয়েছে, তা তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বৃটিশ সরকার জানিয়েছে, ন্যাটসের প্রধান নির্বাহী মার্টিন রোলফের ওপর তাদের আস্থা রয়েছে। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এই বিপর্যয়কে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।
১১ বছর ধরে ন্যাটসের নেতৃত্ব দেয়া রোলফ বুধবার সকালে দেশটির পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ব্যাপকভাবে বিমান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় আলেকজান্ডার তার ‘গুরুতর উদ্বেগের’ কথা জানান।
এদিকে ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, ন্যাটসকে মঙ্গলবারের ঘটনার সময় ঠিক কী ঘটেছিল, তা বিস্তারিত জানিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হিথ্রো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাদের ফ্লাইট নিশ্চিতভাবে চালু রয়েছে, শুধু তাদেরই বিমানবন্দরে আসা উচিত।
কী কারণে বিপর্যয়?
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ন্যাটসের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে এয়ারলাইনগুলো বৃটেনে আসা ও দেশটি থেকে ছেড়ে যাওয়া বহু ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়।
ফ্লাইটরাডারের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে রয়েছে হিথ্রো, গ্যাটউইক, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম। ইউরোপের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর হিথ্রোতে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে কিছু সময়ের জন্য ফ্লাইট ছাড়ার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। পরে বিমান চলাচল শুরু হলেও বিকেলে আবারও বিঘ্ন দেখা দেয়।
গ্যাটউইক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লন্ডন গ্যাটউইক থেকে ফ্লাইট চলাচল আবার শুরু হয়েছে। তবে পুরো কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে তারা জানিয়েছে।
ম্যানচেস্টার, লুটন, স্ট্যানস্টেড, ব্রিস্টল ও বেলফাস্ট সিটি বিমানবন্দরও বুধবার জানিয়েছে, ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। তবে ব্রিস্টল, বেলফাস্ট ও লুটন বিমানবন্দর জানিয়েছে, আগের বিঘ্নের প্রভাব এখনও রয়েছে।
