ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে বিদেশি কোটায় একাদশে নেয়া যায় দু’জন ক্রিকেটার। কেন্ট দলে সেই বিদেশি কোটার দু’জনই বাংলাদেশের, দু’জনই পেসার। হাসান মাহমুদের পর অভিষেক হয়েছে সৈয়দ খালেদ আহমেদের। শুধু সুযোগ পাওয়াই নয়, অভিষেক ইনিংসে বল হাতে আলোও ছড়িয়েছেন হাসান ও খালেদ। নতুন বলে হাসানের আগুনঝরা বোলিংয়ের পর খালেদও ছড়িয়েছেন মুগ্ধতা। একসঙ্গে বাংলাদেশের দুজন পেসার কাউন্টি মাতানোর এই বিশেষ উপলক্ষে তাই উচ্ছ্বসিত হাসান। কেন্টের হয়ে গত জুনে কাউন্টি অভিষেক হয় হাসানের। প্রথম ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ রানে ৬ উইকেট নিয়ে অভিষেক রাঙান বাংলাদেশের এই পেস তারকা। এর আগে প্রথম ইনিংসে তার শিকার ছিল ৩ উইকেট। হাসানের মতো অভিষেক ইনিংসে ৩ উইকেট নিয়েছেন খালেদ। ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুই পেসারের সৌজন্যেই প্রথম দিন শেষে ভালো অবস্থানে কেন্ট। প্রতিপক্ষকে ৩১১ রানে গুটিয়ে দেয়ার পথে হাসানের শিকার ৩০ রানে ৪ উইকেট, খালেদ নিয়েছেন ৭৩ রানে ৩টি। এমন পারফরম্যান্সের পর দিনের খেলা শেষে খালেদের বোলিং নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন হাসান।
তিনি বলেন, ‘এখানে বোলিং পার্টনার হিসেবে খালেদকে পাশে পাওয়াটা দারুণ ছিল। তার জন্য আমি খুবই খুশি। কেন্টের হয়ে প্রথম ম্যাচেই ৩ উইকেট নিয়েছে। আশা করি দ্বিতীয় ইনিংসেও তার সবকিছু ভালো যাবে।’ ম্যাচের প্রথম ওভারে বল হাতে পান হাসান। প্রথম বলে তিনি স্লিপে ক্যাচ বানান হ্যারি কেমকে। এরপর দ্বিতীয় বলে ম্যাথু মন্টগোমেরিকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পেলেন ২৭ ছুঁইছুঁই এই পেসার। নিজের বোলিং নিয়ে স্বাভাবিক পরিকল্পনার কথা জানিয়ে হাসান বলেন, ‘নতুন উইকেটে আমার লক্ষ্য ছিল ঠিক জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বল করা এবং যতোটা সম্ভব রান আটকে রাখা।’ দুই পেসার একসঙ্গে কাউন্টি খেলায় বাংলাদেশের সমর্থকদের আনন্দের কথা জানিয়ে এই পেসার বলেন, ‘দেশের মানুষ খুবই খুশি যে, কেন্টের হয়ে একসঙ্গে দুইজন বাংলাদেশি খেলছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় যা হয়েছে, তারপর এটা আমাদের জন্য সত্যিই বিশেষ একটি ব্যাপার।’ কেন্ট দলে দুজন বাংলাদেশি খেলায় বাংলাদেশের সমর্থকেরাও যে খুশি সেটাও টের পেয়েছেন হাসান। তিনি বলেন ‘দুজন কেন্টের হয়ে খেলছে, এতে বাংলাদেশের মানুষও খুব খুশি। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় যা ঘটেছে, তারপর এ বিষয়টি আমাদের জন্য আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে।’
