মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল গেম ডেভেলপমেন্ট ট্রফির ফাইনালে বৃষ্টি বাগড়া দেয়। তিন দফা বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। মাঠের লড়াই শেষ হতে না পারায় পয়েন্ট তালিকায় এক নম্বরে থাকা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা। গ্রুপ পর্বে চার ম্যাচে তিন জয়ে ছয় পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান নেয় দলটি। অন্যদিকে দুই জয় ও এক হারে পাঁচ পয়েন্ট পায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আয়োজনে তিনটি দল নিয়ে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিসিবির অধীনে রাউন্ড রবিন লীগ পদ্ধতিতে তিন দল মাঠে নামে।
গতকাল ফাইনালে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে অনূর্ধ্ব-২৩ দল। বৃষ্টির কারণে খেলা গড়ায় ফ্লাডলাইটের নিচে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বৃষ্টি নামলে মাঠের আলো নিভিয়ে খেলা বন্ধ করা হয়। ম্যাচ শেষে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচ হান্নান সরকার ট্রফি জয় নিয়ে বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ এর ছেলেদের জন্য এটা একটা ভালো অর্জন, যেখানে হলো ভালো একটা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া গেছে।’ প্রথমে ব্যাট করে ২৪৫ রানে অলআউট হয় অনূর্ধ্ব-২৩ দল। বল হাতে আট ওভার চার বলে ৩৬ রান দিয়ে ছয় উইকেট নেন পেসার তাফিউল আলম তামিম। তার করা ৩৬ বল থেকে রান আসেনি। এছাড়া ৪০ রানে তিন উইকেট পান শেখ আতিকুর রহমান আকাশ। প্রতিপক্ষের ব্যাটার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ করেন ৪৭ রান। আহরার আমিন ৪৬ ও মাহফুজুর রহমান ৩১ রান যোগ করেন। দলের এই বোলিং সংগ্রহ আটকে দেয়। অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে হান্নান বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সঙ্গে খেলা নিশ্চিতভাবেই আমাদের জন্য একটা বড় অভিজ্ঞতা।’ প্রতিপক্ষের উইকেট শিকারে তাফিউল ভূমিকা রাখেন। মাঠে ফিল্ডাররা ক্যাচ ধরে বোলারদের সাহায্য করেন। ব্যাটারদের রান তোলার গতি থামিয়ে দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় যুবারা। প্রতিপক্ষের ইনিংস থামে দশ উইকেট হারানোর মাধ্যমে।
রান তাড়া করতে নেমে দফায় দফায় বৃষ্টিতে পড়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ডিএলএস মেথডে তাদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৩ ওভারে ১৬১ রান। ইনিংসে ব্যাট হাতে আব্দুল্লাহ আল মুহি করেন ২০ রান। এরপর জারিফ সিয়াম ফেরেন ছয় রানে। কাওসার আহমেদ করেন ১৪ রান। ফারহান সাদিক ১৫ বলে দুইটি চার ও দুইটি ছয়ে তোলেন ২৯ রান। আহসান আল মুমিন আউট হন ২৪ রান করে। ১৮তম ওভারে মুমিনের বিদায়ের পর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়। তখন দলের স্কোর ছিল ১৭.২ ওভারে পাঁচ উইকেটে ৯৯ রান। মিরপুরের মাঠে যুবাদের খেলা প্রসঙ্গে হান্নান বলেন, ‘মিরপুরের খেলার যে একটা অভিজ্ঞতা, এটা তাদের পরবর্তী সময়ে মিরপুরে খেলতে আসলে এই ভয়টা আর থাকবে না।’ টুর্নামেন্টে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের ক্রিকেটাররাও খেলার সুযোগ পায়। চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে হেরে ও এক পয়েন্ট পেয়ে তারা বিদায় নেয়। অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে ব্যাটার মো. আব্দুল্লাহ ৯৩ বলে ১০১ রান করেন। বল হাতে স্পিনার ইয়াসিন মজুমদার তিনটি ও পেসার সিফাত আলী দুইটি উইকেট নেন। ক্রিকেটের পাইপলাইন ব্যবস্থা প্রসঙ্গে কোচ হান্নান বলেন, ‘এটা সততার সাথে যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আমি তো লম্বা সময় বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচক ছিলাম, প্রায় আট বছর। তো বয়সভিত্তিক দল বা এই পাইপলাইনের বিষয়টা আমার মোটামুটি ভালোই জানা আছে। কোচিংয়ে আসার পর আমি গত বছর অনূর্ধ্ব-১৭ সামলেছি, এবার অনূর্ধ্ব-১৯ করছি। তো পাইপলাইনে খেলোয়াড়রা কিন্তু সবসময় প্রক্রিয়ার মধ্যেই থাকে। হয়তো এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ যে বিষয়টা ছিল, সেটা হলো টিভিতে দেখানো বা সরাসরি সম্প্রচার করা। এতে করে ওদের সাহসটা বেড়েছে।’
