শিবগঞ্জে তিন ফসলি জমিতে খাদ্যগুদাম নির্মাণে আপত্তি

শিবগঞ্জে তিন ফসলি জমিতে খাদ্যগুদাম নির্মাণে আপত্তি

ফন্ট সাইজ:

বগুড়ার শিবগঞ্জে তিন ফসলি উর্বর কৃষি জমি রক্ষা করতে রাজপথে নেমেছেন স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ। উপজেলার কিচক ইউনিয়নের সাদুরিয়া এলাকায় প্রস্তাবিত একটি আঞ্চলিক খাদ্যগুদাম নির্মাণের উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। কৃষিভিত্তিক এই জনপদের প্রাণভোমরা হিসেবে পরিচিত উর্বর জমি কোনো অবস্থাতেই সরকারি স্থাপনার নামে নষ্ট হতে দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয়রা। রোববার সকালে জয়পুরহাট-মোকামতলা আঞ্চলিক মহাসড়কের সাদুরিয়া এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। শত শত কৃষক, ভূমিমালিক ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ হাতে হাত রেখে দীর্ঘ সময় মহাসড়কের পাশে অবস্থান নেন এবং কৃষিজমি রক্ষার পক্ষে সোচ্চার হন।

মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদানকালে স্থানীয় কৃষকরা তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, প্রস্তাবিত জায়গাটিতে বছর জুড়ে ধান, আলু ও ভুট্টার মতো গুরুত্বপূর্ণ ফসলের রেকর্ড উৎপাদন হয়। এই উর্বর তিন ফসলি জমিতে যদি খাদ্যগুদামের মতো বিশাল অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়, তবে বিশাল পরিমাণের আবাদি জমি চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে। এর ফলে খাদ্য উৎপাদনই ব্যাহত হবে। আশপাশের এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। স্থানীয়দের স্পষ্ট দাবি, সরকার অবশ্যই খাদ্যগুদাম নির্মাণ করুক, তবে তা যেন উর্বর আবাদি জমি নষ্ট না করে কোনো অকৃষি বা অনাবাদি বিকল্প স্থানে করা হয়। শিবগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারুক হোসেন বিষয়টির প্রাথমিক পর্যালোচনার কথা স্বীকার করে বলেন, খাদ্যগুদাম নির্মাণের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত অনুমোদন বা সিদ্ধান্ত হয়নি; বর্তমানে শুধুমাত্র প্রাথমিক সাইট যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।’

একইসঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের সকল রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মালিক সরকার, ফলে জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনে সরকার যেকোনো স্থান অধিগ্রহণ করার এখতিয়ার রাখে।’ অন্যদিকে, কৃষি বিভাগের অনবগতির কথা জানান শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান। তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত এই খাদ্যগুদাম নির্মাণ সংক্রান্ত কোনো প্রাতিষ্ঠানিক চিঠি বা নির্দেশনা আমি এখনো পাইনি। ঠিক কোনো নির্দিষ্ট দাগ বা জায়গায় এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, তাও আমার জানা নেই। সরজমিন প্রস্তাবিত স্থানটি পরিদর্শন না করে সেটি প্রকৃতপক্ষেই তিন ফসলি জমি কিনা, তা আনুষ্ঠানিকভাবে বলা সম্ভব নয়।