দশমিনায় নদীভাঙন আতঙ্কে ৫ হাজার মানুষ

দশমিনায় নদীভাঙন আতঙ্কে ৫ হাজার মানুষ

ফন্ট সাইজ:

দশমিনা উপজেলার হাজিরহাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর আকস্মিক ভাঙনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ওই এলাকার ৫ হাজার মানুষ ভাঙন আতঙ্কে তাদের ঘরবাড়ি, দোকানপাট, কবরস্থান, জামে মসজিদ অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে দশমিনা সদর ইউনিয়নের হাজিরহাট তেঁতুলিয়া নদীর লঞ্চঘাট এলাকায় আকস্মিক ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়। ভাঙনে হাজিরহাট লঞ্চ ঘাট থেকে কেদিরহাট পর্যন্ত আধা কিলোমিটার পাকা সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়াও হাজিরহাট মসজিদ, কবরস্থান, হাজিরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাজিরহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজিরহাট কমিউনিটি ক্লিনিকসহ ৫ শতাধিক বাসাবাড়ি ভাঙনের কবলে পড়েছে। ভয়াবহ ভাঙনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

হাজিরহাট এলাকায় আকস্মিক ভাঙনের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা ও দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আতিকুল ইসলাম মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রায় ২৫টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। বুধবার স্থানীয় নুরু মৃধা, নিজাম উদ্দিন, ফিরোজ হোসেনসহ কমপক্ষে ১০টি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন এবং তাদের পূর্ব পুরুষদের কবর থেকে লাশ তুলে অন্যত্র দাফন করেছেন। সরজমিন দেখা গেছে বুধবার দিনভর ঘরবাড়ি জমি জায়গা হারানো স্থানীয় বাসিন্দাদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। বুধবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বাসাবাড়ি জমিজমা রক্ষার্থে ভাঙনকবলিত এলাকায় মানববন্ধন করে সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন। বুধবার পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. আহসান উল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে ৩০০ থেকে ৫০০ মিটার এলাকার ভাঙন বন্ধ করার জন্য তাৎক্ষণিক দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আবহিত করা হয়েছে।

দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ভাঙনকবলিত এলাকা পরির্দশনে গিয়ে দেখতে পাই ভয়াবহ বিপর্যয়। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর মানবজমিনকে বলেন, দশমিনা ও গলাচিপার বেশকিছু এলাকা ভাঙনের ঝুঁকির কবলে রয়েছে এবং ভাঙছে এটা অত্যন্ত বেদনার। আমি আমার পক্ষ থেকে দশমিনার হাজিরহাটের ভাঙনের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবকে অবহিত করেছি।
ভাঙনকবলিত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে অথবা পাশ দিয়ে বেড়িবাঁধ তৈরি করে জনগণকে সুরক্ষিত রাখা যায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বিষয়টি অবহিত করেছি।