দেশে ফেরা হলো না আমিনের

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনা

দেশে ফেরা হলো না আমিনের

ফন্ট সাইজ:

দেড় মাসের ছুটি নিয়ে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সুনামগঞ্জের আমিন উদ্দিন। গত মঙ্গলবার সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানানোর কথা ছিল স্বজনদের। এজন্য আগের দিন ছোট ভাইকে বিমানের টিকিটের ছবিও পাঠিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দেশে ফেরার কয়েক ঘণ্টা আগেই সৌদি আরব থেকে এলো তার মৃত্যুর খবর। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। সৌদি আরবের রিয়াদ-তায়েফ সড়কের আল-কোমরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আমিন উদ্দিনসহ গাড়িতে থাকা চারজন নিহত হয়েছেন। নিহত আমিন উদ্দিন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের বর্মাউত্তর গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে। তিনি প্রায় ২৭ বছর ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছিলেন। তায়েফ এলাকায় তার একটি কফির দোকান রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকাল ৪টা ২৭ মিনিটে আমিন উদ্দিন তার ছোট ভাই মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে বিমানের টিকিটের ছবি পাঠান। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় সিলেট বিমানবন্দর থেকে তাকে নিয়ে আসতে বলেন। দীর্ঘদিন পর আমিন দেশে ফিরছেন এ খবরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর সৌদি আরবে থাকা আরেক ভাই কলিম উদ্দিন ফোন করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আমিন মারা গেছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, তায়েফ থেকে জেদ্দা বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে আমিন উদ্দিনসহ চারজন একটি গাড়িতে রওনা হন। গাড়ির মূল চালকের ভাতিজাও দেশে আসার জন্য তাদের সঙ্গে ছিলেন। পথে আল-কোমরা এলাকায় গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে আমিন উদ্দিন, গাড়ির চালকসহ চারজন নিহত হন।

দুর্ঘটনার পর চালকের ভাতিজা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিহতের ভাই সৌদিপ্রবাসী মাওলানা আব্দুল আওয়াল ও মাওলানা কলিম উদ্দিন তায়েফের এরজোয়ান থানায় পলাতক চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। আমিন উদ্দিনের ছোট ভাই মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ভাই আমাকে ফোন করে মঙ্গলবার সকালে সিলেট বিমানবন্দর থেকে তাকে নিয়ে আসতে বলেছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই সৌদিপ্রবাসী আরেক ভাই কলিম উদ্দিন জানান, আমাদের ভাই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তিনি বলেন, ভাইয়ের তিনটি সন্তান। তাদের আমরা এখন কী জবাব দেবো? আমরা আমাদের ভাইকে হারিয়েছি। এখন আমাদের একটাই দাবি, তার মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

এজন্য সরকারের সহযোগিতা চাই। পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, আমিন উদ্দিন সর্বশেষ গত বছরের ৩রা আগস্ট দেশে এসেছিলেন। এবার দেড় মাসের ছুটি নিয়ে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। আগামী ২৩শে নভেম্বর তার সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। এজন্য সিলেট থেকে জেদ্দার ফিরতি বিমান টিকিটও সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। তবে দেশে ফেরার বদলে তার মরদেহ বর্তমানে সৌদি আরবের তায়েফ আল-মরুয়া এলাকার একটি হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আমিন উদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তার মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে আমাদের কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আমরা তাদের সহযোগিতা করবো।