কুতুপালং বাজার ফের দখল

কুতুপালং বাজার ফের দখল

ফন্ট সাইজ:

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং বাজারে উচ্ছেদের পর আবারো দখলের ধুম পড়েছে। ক’মাস আগে প্রশাসনের অভিযানে সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও বর্তমানে উচ্ছেদ করা জায়গার কিছু অংশে ফের নতুন করে স্থায়ী দোকান ও কাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব দোকান নির্মাণের নেপথ্যে রয়েছে একটি প্রভাবশালী মহল। নির্মাণ শেষে দোকানগুলো বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ভাড়া দেয়া হচ্ছে এবং ওই মহলই এসব দোকান থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায় করছে। গত ২৭শে এপ্রিল কুতুপালং বাজারে যানজট নিরসনে অভিযান চালিয়ে সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে উখিয়া উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে ফুটপাথ দখলসহ বিভিন্ন অপরাধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানাও করা হয়।

উচ্ছেদ-পরবর্তী সময়ে একই স্থানে যাতে ফের অবৈধ দখল বা স্থাপনা গড়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। এরপরও কয়েক মাসের ব্যবধানে উচ্ছেদ করা জায়গায় নতুন করে স্থায়ী কাঠামো নির্মাণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা বলছেন, কুতুপালং বাজারে যানজট দীর্ঘদিনের সমস্যা। বাজারের প্রধান সড়কের দুই পাশে জায়গা সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে প্রায়ই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রশাসনের অভিযানে যে জায়গা দখলমুক্ত করা হয়েছিল, সেখানে আবার কারা দোকান নির্মাণের সুযোগ পাচ্ছে? কার অনুমতি বা আশ্রয়ে এসব স্থাপনা তৈরি হচ্ছে? আর সরকারি বা সড়কের জায়গা ব্যবহার করে ভাড়া আদায়ের সুযোগই বা দেয়া হচ্ছে কীভাবে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল এসব দোকান থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায় করছে।

তবে দোকানপ্রতি কতো টাকা ভাড়া নেয়া হচ্ছে, বছরে বা মাসে মোট কতো টাকা আদায় হচ্ছে এবং ভাড়া আদায়ের বৈধতা কী, এসব বিষয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে হবে না। উচ্ছেদের পর জায়গাগুলোতে পুনরায় যাতে কেউ স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। সচেতন মহলের দাবি, কুতুপালং বাজারে সরকারি ও সড়কের জায়গা দখল করে নতুন স্থাপনা নির্মাণের সঙ্গে কারা জড়িত, কারা ভাড়া আদায় করছে এবং এসবের পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হোক।