দেশের একমাত্র বিলাসী কচুর সর্ববৃহৎ হাট রংপুরের পীরগঞ্জে। হাটের সরকারি হিসাবে এক বছরের জন্য ইজারায় ডাক চূড়ান্ত করা হয়েছে ৪৩ লাখ টাকা। কিন্তু হাট লাগানোর জন্য নির্দিষ্ট হাটের জায়গা প্রস্তুত থাকলেও সেখানে বিলাসী কচুর হাট না বসিয়ে বসানো হয় মহাসড়কে। ফলে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে নিত্যদিনই যানজট লেগে থাকে। মহাসড়ক আইন-২০২১ অনুযায়ী সরকারের অনুমতি ছাড়া মহাসড়ক বা এর নির্ধারিত সীমানার মধ্যে কোনো ধরনের হাট-বাজার বসানো বা ব্যবসায়িক কাজকর্ম পরিচালনা করা অবৈধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক পীরগঞ্জের খেদমতপুর নামক স্থানে সরকারি প্রায় ৫০ শতাংশ জায়গায় একটি শুধু বিলাসী কচু ও আলু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য হাট রয়েছে। সরকারি ডাক অনুযায়ী, এই হাটটি এক বছরের জন্য ইজারা দেয়া হয়েছে ৪৩ লাখ টাকা।
কিন্তু হাট ব্যবস্থাপনা কমিটি হাটের জায়গায় হাট না বসিয়ে ১ শত গজ দূরে ৬ লেন মহাসড়কের একটি লেন বন্ধ করে বিলাসী কচুর হাট বসানো হয়। ফলে মহাসড়কে চলাচলকৃত সর্বপ্রকার যানবাহন হরহামেশাই যানজটের সৃষ্টি হয়ে নানা দুর্ঘটনার স্বীকার হয়। পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে পীরগঞ্জ উপজেলায় ১ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে এই বিলাসী কচুর চাষ হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় উৎপাদন হবে ৫ হাজার ৬ শত টন। প্রতি ৪০ কেজির একমণ বিলাসী কচুর মূল্য ১ হাজার ৫শ’ থেকে ১ হাজার ৬শ’ টাকা দরে বিক্রয় চলছে।
বর্তমান বাজার দরে এর মূল্য আসে প্রায় ২১ কোটি টাকা। প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই হাটে বিলাসী কচু ৭০-৮০ টন বেচাকেনা চলে। যার আনুমানিক মূল্য ৪৫-৪৬ লাখ টাকা। বর্তমান হাটের ইজারাদার মো. আহসান হাবিব প্রধান জানান, কচু হাটের জন্য নির্ধারিত হাট রয়েছে। মালামাল বহনে রাস্তা সরু হওয়ায় ট্রাক চলাচলে সমস্যা। সরকার হাটের রাস্তা প্রশস্ত করলে তখন ওই হাটে বেচাকেনা করা সম্ভব হবে। একই কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, রাস্তা সম্প্রসারণে দু’পাশে সুযোগ থাকলে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ করে দেবো।
