অপহরণের তিন মাস পর কিশোর উদ্ধার

ফন্ট সাইজ:

অপহরণের প্রায় তিন মাস পর মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার আবুল কাশেম নুরজাহান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাছুদ মোহাম্মদ আরবিত। গতকাল একটি গাড়িতে করে তাকে এনে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে সে। এদিকে চাঞ্চল্যকর এ অপহরণ ঘটনার তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার এজাহারনামীয় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে ইতিমধ্যে দুই দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে অপহরণের মূল কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে। উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, মামলার এজাহারনামীয় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঘটনার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং অপহরণের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তাকে দুই দফা রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে ওই কিশোরকে অপহরণ করেছিল, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরবিত সাংবাদিকদের জানায়, তাকে একটি ৩ থেকে ৪ তলা ভবনে আটকে রাখা হয়েছিল। সেখানে প্রতিদিন মাত্র একবেলা খাবার দেয়া হতো। উদ্ধারের আগে টানা ৮ দিন তাকে কোনো খাবার দেয়া হয়নি বলেও দাবি করে সে। আরবিতের ভাষ্য, অপহরণকারীদের নিজেদের মধ্যে বলতে শুনেছে তাকে আর আটকে রাখা সম্ভব নয়, এতে তাদের বিপদ হতে পারে। এরপর তাকে গাড়িতে করে এনে ফেলে রেখে যায় তারা। ছেলেকে মুমূর্ষু অবস্থায় ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আরবিতের মা কাজল আক্তার। দ্রুত তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। আরবিতের বাবা আফাজ উদ্দিন জানান, গত ১৭ই জুলাই উখিয়া থানায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

তিনি বলেন, ছেলেকে উদ্ধারে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবং গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাদের চাপের কারণেই অপহরণকারীরা ছেলেকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন কিশোরকে দীর্ঘ তিন মাস আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আসামিকে দুই দফা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপহরণের নেপথ্যের মূলহোতাসহ জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে দীর্ঘদিন পর আরবিত পরিবারের কাছে ফিরলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তার আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। তিন মাসের বন্দিদশার পেছনে কারা ছিল, কেনই বা তাকে অপহরণ করা হয়েছিল, এখন সেই রহস্যের জট খোলার অপেক্ষায় পরিবার ও উখিয়াবাসী।