পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের পশতুন-অধ্যুষিত জেলাগুলোতে গত জুন থেকে সশস্ত্র সহিংসতা বেড়েছে। এতদিন প্রদেশটির দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত থেকে অনেকটাই বাইরে থাকা এসব এলাকা এখন নতুন করে হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর পশতুন অধ্যুষিত পিশিন জেলার জিয়ারাত ক্রস এলাকায় একটি শুল্ক স্থাপনায় পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) হামলা প্রতিহত করার কথা জানায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এতে কয়েকজন সশস্ত্র যোদ্ধা এবং ছয়জন নিরাপত্তা ও শুল্ককর্মী নিহত হন।
তিন দিন পর কোয়েটার উপকণ্ঠের শাবান এলাকায় অভিযানে আরও ২৬ টিটিপি যোদ্ধা নিহত হওয়ার দাবি করে তারা। ৩ সেপ্টেম্বর জিয়ারাত থেকে ফেরার পথে একটি আধাসামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়।
বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) হামলার দায় স্বীকার করলেও পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর ঘটনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (পিআইসিএসএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে সহিংস প্রদেশে পরিণত হয়েছে। জুলাইকে তারা ২০২৬ সালের সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস হিসেবে উল্লেখ করেছে। ওই মাসের প্রথম সপ্তাহেই বেলুচিস্তানে ২৫টি হামলায় ১০২ জন নিহত হন।
জুনের আগে পশতুন সংখ্যাগরিষ্ঠ ১১টি জেলা ঝোব, শেরানি, কিলা সাইফুল্লাহ, লোরালাই, মুসাখাইল, দুকি, বারখান, পিশিন, কিলা আবদুল্লাহ, জিয়ারাত ও হারনাই গত জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র হামলার শিকার হয়নি। কিন্তু জুনের পর এসব এলাকায় অন্তত ১৩টি হামলা হয়েছে।
জুলাইয়ে জিয়ারাতের কাছে একটি বাঁধ প্রকল্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ২৭ পুলিশ সদস্য নিহত হন। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে বেলুচিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, তাফতান-কোয়েটা ও কোয়েটা-করাচি মহাসড়ক কয়েক মাস ধরে কার্যত অচল। এ সময়ে ১০০টির বেশি পণ্যবাহী ট্রাকে আগুন দেয়া হয়েছে এবং দুই চালক নিহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, টিটিপি ও বিএলএ তাদের প্রচলিত ঘাঁটির বাইরে তৎপরতা বিস্তারের চেষ্টা করছে। উত্তর বেলুচিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাণিজ্যপথগুলো এখন তাদের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।
তবে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সরাসরি সমন্বয় রয়েছে কিনা, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সামরিক অভিযানের পর টিটিপির কিছু যোদ্ধা বেলুচিস্তানে চলে এসেছে।
বিশ্লেষকদের সতর্কতা, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিস্তার পশতুন অধ্যুষিত এলাকাগুলোর বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে বেলুচিস্তানের দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সংকট আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
