আপিল বিভাগ অনেকটা অকার্যকর হয়ে গেছে: খোকন

আপিল বিভাগ অনেকটা অকার্যকর হয়ে গেছে: খোকন

ফন্ট সাইজ:

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ অনেকটা অকার্যকর হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট বার বিল্ডিং-এর সামনে মানবজমিনকে তিনি বলেন, ‘আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা কমে যাওয়ায় বেঞ্চ সংকট তৈরি হয়েছে। জরুরি মামলা নির্ধারিত সময়ে শুনানিতে না আসা এবং মামলা শুনানি করানো কঠিন হয়ে পড়ায় বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।’

ব্যারিস্টার খোকন বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এখানে প্র্যাকটিস করছি, প্রায় ৩৫ বছরের বেশি। আমার কাছে মনে হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ অনেকটা অকার্যকর হয়ে গেছে। এখানে মূলত বেঞ্চ নেই, কোর্ট নেই। আগে ১১ জন বিচারপতি ছিলেন, এখন চারজন, পরে আরও একজন এসেছেন—সংখ্যা পাঁচজন হয়েছে। আরেকজন নতুন আসছেন।’

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় জরুরি মামলা ফিক্স করে বিচারকের চেম্বারে যাবে, সেগুলোও সময়মতো আসে না। মামলা শুনানি করানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ যদি কার্যকরভাবে কাজ না করে, তাহলে এর প্রভাব পুরো বিচারব্যবস্থার ওপর পড়বে।’

আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি বলেন, ‘এটা আইনজীবীদের সেন্টিমেন্ট। আমরা আদালতে বা আদালতের বাইরে যেখানেই আলোচনা করি, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা কী বলছেন, সেটাই আমি বলছি। এটা বলার দায়িত্ব আমার আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে পরপর নির্বাচিত হয়েছি। সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠার পর থেকে, ১৯৪৮ সালের পর এতবার কেউ নির্বাচিত হয়নি। বার কাউন্সিলেও তিনবার নির্বাচিত হয়েছি, নয় বছর দায়িত্ব পালন করেছি। বিচার বিভাগের প্রতি আমার কমিটমেন্ট আছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই, মানুষও ন্যায়বিচার চায়।’

মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতাকে ন্যায়বিচারের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটি মামলা শুনানিতে দীর্ঘসূত্রতা ন্যায়বিচারের প্রতিবন্ধকতা বলে আমি মনে করি। আমরা সবসময় এটা বলে আসছি।’

প্রধান বিচারপতির ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন খোকন। তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর থেকেই মূলত এই ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু তার কাছ থেকে কোনো উদ্যোগ আমরা দেখছি না।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের কর্মপরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। খোকন বলেন, ‘বার কাউন্সিল তার অধীনে। আইন সংশোধনের পর তারাই পরিচালনা করছেন। হাজার হাজার আইনজীবীকে সনদ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু তাদের কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই, কর্মপরিবেশ নেই। এই সুপ্রিম কোর্টেই দেখেন, কত তলা বিল্ডিং হলো বিচারপতিদের বসার জন্য। আমরা তার সঙ্গে কতবার দেখা করতে গেছি। শেষ পর্যন্ত তিনি বলেছেন, মাস্টারপ্ল্যান করছেন।’

আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার সমালোচনা

আপিল বিভাগে এক আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করার ঘটনাটিরও সমালোচনা করেন সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি। তিনি বলেন, ‘একজন আইনজীবী ভুল করতে পারেন। কিন্তু একজন আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করে দেবেন? তিনি তো জুনিয়র আইনজীবী। কোথা থেকে তিনি এই টাকা দেবেন? এরপর তিনি সমাজে মুখ দেখাবেন কীভাবে? কোনো ক্লায়েন্ট তাঁর কাছে আসবে?’

খোকন বলেন, ‘এটা আনপ্রেসিডেন্টেড (নজিরবিহীন)। ওই বিষয়ে আমি ক্ষমা চাচ্ছিলাম। আস্তে আস্তে, বিনয়ের সঙ্গে বলছিলাম।’ পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আলোচনা করছি, সুপ্রিম কোর্টে পরবর্তীতে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, কী সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া যায়—এই বিচার বিভাগকে সচল করার জন্য। আইনজীবীরা আলোচনা করে যেভাবে চান, সেভাবেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরে জানাব।’
এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন খোকন। তিনি বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল বক্তব্য রাখছেন, উনি কে? হি ইজ নাথিং, নোবডি হিয়ার! উনি সাবেক হয়ে যাচ্ছেন। উনি তো এখানে কিছু না।’