ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে একটি স্পিডবোটে থাকা পাঁচ সাংবাদিকসহ মোট আটজন নিখোঁজ হয়েছেন। তাদেরকে সন্ধানে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, ৭ই সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে পাঁচজন সাংবাদিক, স্পিডবোটের দুই কর্মী ও একজন গাইডকে নিয়ে স্পিডবোটটি সুন্দা প্রণালির আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয় দ্বীপের উদ্দেশে রওনা হয়। অগ্ন্যুৎপাতের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতেই সাংবাদিকরা সেখানে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তারা নিখোঁজ হয়ে যান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা বাসারনাস জানায়, যাত্রার কিছুক্ষণ পরই স্পিডবোটটির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে নিখোঁজদের একজনের স্বজনদের কাছে শেষ বার্তা পৌঁছায়। ওই বার্তায় জানানো হয়, তারা আনাক ক্রাকাতাউয়ের আশপাশের জলসীমায় পৌঁছেছেন। নিখোঁজ সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন আন্তারার ফটোসাংবাদিক এম বাগুস খয়রুন্নাস, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মার্দেকার আরি বাসুকি, ইন্দোনেশিয়ার টেলিভিশন চ্যানেল আই-নিউজের ইউদিস, আনাদোলুর দাউস এবং ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ডোনাল।
মঙ্গলবার বিকেলে উদ্ধার অভিযান শুরু হলেও কয়েক ঘণ্টা পর উত্তাল ঢেউ ও কম দৃশ্যমানতার কারণে তা স্থগিত করা হয়। বুধবার আবহাওয়া কিছুটা অনুকূল হওয়ায় অনুসন্ধান এলাকা প্রায় ২৭১ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। উদ্ধারকারীরা আনাক ক্রাকাতাউয়ের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিশেষভাবে তল্লাশি চালাচ্ছেন। নৌবাহিনী, পুলিশ ও উদ্ধারকারী সংস্থার ছয়টি নৌযানসহ মোট পাঁচটি অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিট অভিযানে অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি ইনফ্ল্যাটেবল বোট ও থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। বাসারনাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগ্নেয়গিরিটি এখনও মাঝেমধ্যে অগ্ন্যুৎপাত করছে এবং লাভা, ছাই ও উত্তপ্ত আগ্নেয় পদার্থ ছুড়ে দিচ্ছে। ফলে উদ্ধারকারীদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালাতে হচ্ছে।
