কক্সবাজারের মহেশখালীতে বসতবাড়িতে ঢুকে শিল্পী রানী শীল (৫০) নামে এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যার খবর পাওয়া গেছে। নিহত শিল্পী রানী শীল জেলা ছাত্রলীগ নেতা শুভ’র মা বলে জানা গেছে। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পদ্মপুকুর পাড় শীল পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিল্পী রানী ওই এলাকার কালীমন্দির পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা রবীন্দ্র লাল সুশীলের স্ত্রী। স্থানীয়রা জানান, রাতে রবীন্দ্রনাথ শীলের বাড়িতে চুরির উদ্দেশ্যে অজ্ঞাত
এক ব্যক্তি প্রবেশ করে। বাড়িতে থাকা শিল্পী রানী চোরের উপস্থিতি টের পেয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি শিল্পী রানী শীলকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে তার স্বামী রবীন্দ্রনাথ শীলসহ স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শিল্পী রানী শীল ও তার স্বামী নিজেদের বাড়িতেই বসবাস করতেন। তাদের সন্তানরা পড়াশোনার জন্য চট্টগ্রাম ও ঢাকায় থাকেন বলে জানিয়েছে পরিবারটি। হঠাৎ করে বাড়িতে ঢুকে শিল্পী রানী শীলের ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ রয়েছে, দুর্বৃত্তরা কারা এবং পরিকল্পিত হত্যা কিনা-এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ বিষয়ে নিহতের ছেলে শুভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লেখেন, ‘যে মহেশখালীকে আমার মা-বাবা ভালোবেসে ওখান থেকে আসেনি। সেই মহেশখালী আমার মায়ের মতো মানুষটাকে মেরে ফেললো, তাও সন্ধ্যাবেলায় আমার মাকে এভাবে হারাতে হবে- জীবনে কখনো ভাবতে পারি না।
তিনি লেখেন, আমার মা’র একটা অসুখ নাই, পাড়ার সব মানুষের বিপদে আমার মা-বাবা ছিল, এত বলেও আমরা ভাই-বোন ওদের আনতে পারিনি। এখন কী হবে? আমার সাজানো পরিবারটা শেষ করে দিলো একদম।
হত্যাকাণ্ড নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে চুরির উদ্দেশ্যে কেউ বাড়িতে প্রবেশ করে। চোরকে চিনে ফেলায় হত্যার মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে নিহতের ছেলে শুভ’র ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হামলা চালিয়ে থাকতে পারে, এমন কানাঘুষাও চলছে। এ ব্যাপারে মহেশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রতুল কুমার শীল বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
