তেজগাঁওয়ে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

তেজগাঁওয়ে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন সাতরাস্তা এলাকায় চোর সন্দেহে অজ্ঞাত (২৫) এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সকাল ৮টার দিকে ওই এলাকায় অবস্থিত বিটিসিএল অফিসে এ ঘটনা ঘটে। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বিষয়টি মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, গতকাল সকালে তিন যুবক বিটিসিএল অফিসের দেয়াল টপকে চুরির উদ্দেশ্যে ভেতরে প্রবেশ করে। বিষয়টি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টের পেয়ে তাদের ধাওয়া করেন। এ সময় দু’জন পালিয়ে যায়। আটকে পরা অজ্ঞাত ওই যুবককে চোর সন্দেহে পিটুনি দেয় আনসার সদস্যরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তবে আনসার সদর দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা ওই যুবককে আটক করতে সহযোগিতা করেন।

দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের মধ্যে পিসি নুরুল ইসলাম আটককৃত যুবককে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষের পি.ও. সুলতান মাহমুদ এবং ইলেকট্রিশিয়ান সাইফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে নিজ নিজ দায়িত্বস্থলে ফিরে যান। তার মৃত্যুর সঙ্গে আনসার সদস্যদের কোনো সম্পর্ক নেই।
এদিকে, নিহত যুবককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া বিটিসিএল অফিস সহকারী মো. সাইফুল গণমাধ্যমকে বলেন, আমি গাজীপুর থেকে এসে অফিস করি। সকালে অফিসে এসে জানতে পারি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ৩ জন যুবক বিটিসিএল অফিসের দেয়াল টপকে চুরির উদ্দেশ্যে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টের পেয়ে তাদের ধাওয়া করেন। ধাওয়া খেয়ে দু’জন পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে একজন ধরা পড়লে তাকে আনসার সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিছুক্ষণ পরে বৃষ্টি শুরু হলে তাকে আনসার ক্যাম্পে রাখা হয়। সেখানে আনসার সদস্যদের মারধরে ওই যুবক গুরুতর আহত হয়ে পড়ে। আমরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। তিনি জানান, নিহতের নাম পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে। নিহতের নাম পরিচয় এখনো জানা যায়নি। আমরা সিআইডি ক্রাইমসিনকে খবর দিয়েছি। প্রযুক্তির সহায়তায় তার নাম-পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, খবর পেয়েছি চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বর্তমানে তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। সেখানে আমাদের একটি দল সেখানে গিয়েছে। আরেকটি দল বিটিসিএলের অফিসে গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে। তিনি বলেন, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত তা জানা যায়নি। তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো যাবে। নিহতের পরিচয় বের করতে কাজ করছে পুলিশ।

অভিযোগ নিয়ে যা জানালো আনসার সদর দপ্তর
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে আনসার সদর দপ্তর জানিয়েছে, প্রকাশিত সংবাদে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা কর্তৃপক্ষের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ভিত্তিহীন ও বাস্তব ঘটনার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে তেজগাঁও টিঅ্যান্ডটি তার ভাণ্ডার এলাকায় কয়েকজন যুবক অনুপ্রবেশ করে। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্য শাহজামাল এক যুবককে চুরি করতে দেখেন এবং তাকে ধাওয়া করেন। পুরনো টিনের চালের উপর দিয়ে দৌড়ানোর একপর্যায়ে চোর চাল ভেঙে নিচে পড়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে বিটিসিএলের স্টাফ মো. শওকত হোসেন ওই যুবককে আটক করেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার সদস্যরা তাকে আটক করতে সহযোগিতা করেন। ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের মধ্যে পিসি নুরুল ইসলাম আটককৃত চোরকে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষের পি.ও. সুলতান মাহমুদ এবং ইলেকট্রিশিয়ান সাইফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে নিজ নিজ দায়িত্বস্থলে ফিরে যান।

আনসার বাহিনী জানায়, ওই যুবককে আনসার সদস্যরা ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেছেন বা মারধর করেছেন, এমন তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই। সেক্ষেত্রে আনসার সদস্য কর্তৃক আহত যুবককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রচারিত তথ্য নিতান্তই অবান্তর এবং অপ্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইন, বিধি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল। কোনো স্থাপনায় নিরাপত্তা ভঙ্গকারী ব্যক্তিকে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সোপর্দ করাই দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের মূল কর্তব্য। এক্ষেত্রেও আটক ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট সংস্থার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো ঘটনার বিষয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রচারিত হলে তা বাহিনীর ভাবমূর্তি ও জনআস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য ও তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।