গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে প্রেসিডেন্ট

গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে প্রেসিডেন্ট

ফন্ট সাইজ:

প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রের মূল শক্তি হচ্ছে গণমাধ্যম। গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে। গণমাধ্যমকে সঠিক পথে থেকে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সুশাসনের জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মঙ্গলবার বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন বলে জানিয়েছে প্রেস উইং।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রেস ক্লাবের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক। আমার সবচেয়ে দুঃসময়ে আপনারা আমার পাশে ছিলেন, যা আমার জন্য বিরাট প্রাপ্তি।’

তিনি বলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে একটা সংস্কৃতি। একে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। সেজন্য মন-মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন করতে হবে। পুরনো কর্তৃত্ববাদী চিন্তা-ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে। আন্দোলন করে পরিবর্তন আনার পরও যদি পুরনো মানসিকতা থেকে যায়, তাহলে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব হবে না।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকারকে কাজ করার জন্য সময় দিতে হবে। এসময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধসহ বৈশ্বিক কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের কথা যথাযথভাবে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।

সাংবাদিকদের কল্যাণে সার্বিক সহযোগিতা করার আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রেসিডেন্ট বলেন, আমার জায়গা থেকে আপনাদের জন্য যেটুকু করার আছে, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, আমি সেটুকু করার চেষ্টা করবো। বন্ধ পত্রিকাগুলো বিশেষ করে ট্রাস্টের অধীনে থাকা পত্রিকাগুলো পুনরায় চালু করা গেলে অন্তত ১০০০ সাংবাদিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ঐক্য অত্যন্ত জরুরি, বিভক্তি কখনো সাফল্য এনে দিতে পারে না। আপনারা মৌলিক জায়গাগুলোতে এক হতে পারলে সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গেও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন। এসময় প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের সুরক্ষা এবং অনিয়ম ও গণহারে সাংবাদিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পরে একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এখন গণমাধ্যমের দায়িত্বও আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের ভুল-ত্রুটিগুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারের ভালো কাজগুলোকেও জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে প্রেসিডেন্ট এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের গণমাধ্যমের প্রাণকেন্দ্র জাতীয় প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিকদের কল্যাণ ও উন্নয়নে সরকারের নেতৃত্বের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ওপর জোর দেন। এর আগে প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ উপস্থিত অন্য সদস্যদেরকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি প্রেসিডেন্টকে সুবিধাজনক সময়ে প্রেস ক্লাবে আমন্ত্রণ জানান। প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া বলেন, প্রেস ক্লাবে আপনি আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো ছিলেন। আমরা গর্বিত ও আনন্দিত যে, প্রেস ক্লাবেরই একজন সদস্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

এ সময় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য সৈয়দ আবদাল আহমদ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অতীতের স্মৃতিচারণ করেন এবং গণতন্ত্র রক্ষায় তার ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করেন।
প্রেস ক্লাবের সদস্য কাদের গনি চৌধুরী বিগত সময়ের অপসাংবাদিকতার কথা তুলে ধরেন এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রেসিডেন্টের সহযোগিতা কামনা করেন। এসময় তিনি সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কল্যাণে দ্রুত দশম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নে সরকার ও প্রেসিডেন্টের নিকট সহযোগিতা কামনা করেন।
এসময় সাংবাদিক নেতারা প্রেস ক্লাবের অবকাঠামো সমপ্রসারণে প্রেসিডেন্টের সহযোগিতা কামনা করলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

এ সময় ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যান্য সদস্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বখতিয়ার রানা (কোষাধ্যক্ষ), কাজী রওনাক হোসেন, সৈয়দ আবদাল আহমদ, কাদের গনি চৌধুরী, শাহনাজ বেগম পলি, মোহাম্মদ মোমিন হোসেন, আবদুল হাই শিকদার, মাসুমুর রহমান খলিলী, এ কে এম মহসীন ও জাহিদুল ইসলাম রনি। এ ছাড়া সাক্ষাতে প্রেসিডেন্টের সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।