চট্টগ্রামে মার্কেট দখল নিতে হামলা

বিএনপি নেতাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মার্কেট দখল নিতে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার ঘটনায় দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাকির আহমদসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার রাতে আনোয়ারা থানায় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আবদুল হামিদ সুমন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
গত শনিবার বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার চাতরী এলাকার হাজী এ. আলী শপিং কমপ্লেক্সের নিচতলা ও দ্বিতীয় তলায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর। মামলার বাদী মোহাম্মদ আবদুল হামিদ সুমন ওই মার্কেটের একজন দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী।

তার করা মামলায় দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সদস্য জাকির আহমদ, মো. রুবেল, মো. দিদার, মো. রফিক আহমদ, মো. ইব্রাহীম, নয়ন, ফরহাদ হোসেন, হেলাল ও মো. জুয়েলকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মার্কেটের দোকান মালিকদের সঙ্গে ভূমির মালিক ও ডেভেলপারের বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। দোকান মালিকদের করা একটি বাণিজ্যিক মামলায় আদালত ২০২৫ সালের ১১ই নভেম্বর বিতর্কিত একটি রোয়েদাদের কার্যক্রম স্থগিত করেন। ওই স্থগিতাদেশ এখনো বহাল রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আদালতে বিরোধ চলমান থাকার মধ্যেই তাদের মার্কেট থেকে উচ্ছেদের জন্য কয়েকদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিলেন অভিযুক্তরা। এরই ধারাবাহিকতায় ৫ই সেপ্টেম্বর বিকালে জাকির আহমদের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মার্কেটের চলাচলের পথে টিনের বেড়া দিয়ে দেন।

ব্যবসায়ীরা ওই বেড়া সরিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ওপর কিরিচ, রামদা, লোহার রড, হকিস্টিক ও কাঠের বাটাম নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। বাদী আবদুল হামিদ সুমনের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপান। পরে রামদা’র আঘাতে তার বাম হাতের তর্জনী গুরুতর জখম হয়। আবদুর রহিম, ইকবাল কবিরসহ আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী হামলায় আহত হন। হামলার অভিযোগের পাশাপাশি মামলার ১ নম্বর আসামি জাকির আহমদের বিরুদ্ধে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় স্থায়ী দোকান নির্মাণ করে তা বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গাটি উপজেলা প্রশাসন কাঁচাবাজার হিসেবে ইজারা দিলেও সেখানে স্থায়ী দোকান নির্মাণ করা হয়েছে।

এসব দোকান ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। শতাধিক স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, চাতরী চৌমুহনী বাজারটি কেইপিজেড, সিইউএফএল ও কাফকো’র মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের হাজারো শ্রমিকের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে অবস্থিত। বাজারের অবৈধ স্থাপনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, ‘সিইউএফএল জায়গাটি আমাদেরকে গেজেট করে দিয়েছে। এই সড়ক থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে অনেক কষ্ট হয়েছে। সড়কটি নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এখন শুধু কাঁচাবাজারের জায়গা নয়, পুরো সড়কই দখল করে নেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন আমাদের জায়গা কীভাবে ইজারা দেয়, সেটিও প্রশ্ন। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দখল করে রাখা হয়েছে। এখানে স্থায়ী দোকান নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই।’

মামলার ১ নম্বর আসামি জাকির আহমদ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি সেখানে যাইনি। এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।’ হামলার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে তাকে দেখা যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু জানি না। আপনি তদন্ত করে দেখেন।’ জাকির আহমদ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব লায়ন হেলালের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েদ চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও আসামি রয়েছে। পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।

অন্যদিকে সরকারি জায়গা কাঁচাবাজার হিসেবে ইজারা দেয়া, সেখানে স্থায়ী দোকান নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দখলের অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহিন উদ্দীনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।