গ্যাস-কাঁচামাল সংকটে চট্টগ্রামের তিন সার কারখানা বন্ধ

গ্যাস-কাঁচামাল সংকটে চট্টগ্রামের তিন সার কারখানা বন্ধ

ফন্ট সাইজ:

গ্যাস সংকট, নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ ও কাঁচামালের ঘাটতিতে একের পর এক বন্ধ হয়ে আছে চট্টগ্রামের তিন সার কারখানা। কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দেশের সার সরবরাহব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সোমবার সকাল থেকে আনোয়ারায় অবস্থিত কাফকোর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে কারখানাটিতে গ্যাস সরবরাহও ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে প্রায় চার মাস আগে উৎপাদনে ফেরা কারখানাটি আবারও উৎপাদনের বাইরে চলে গেল। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্র জানায়, কাফকোতে এতদিন দৈনিক প্রায় ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও সোমবার থেকে তা কমিয়ে সাড়ে ৫ মিলিয়ন ঘনফুটে নামিয়ে আনা হয়েছে। কেজিডিসিএল’র উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ উত্তর) প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিক খান বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাফকোতে গ্যাস সরবরাহ কমানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্ণমাত্রায় গ্যাস সরবরাহ করা হবে।

তবে কাফকো কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়াই উৎপাদন বন্ধের মূল কারণ নয়। নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ বা ওভারহোলিংয়ের অংশ হিসেবেই বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। কাফকোর চিফ অব পার্সোনেল ফারুখ আহমেদ বলেন, প্লান্টের সচলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি তিন বছর পরপর এক থেকে দেড় মাসের জন্য বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। এবারও সেই রক্ষণাবেক্ষণ চলছে। কাজ ও প্রয়োজনীয় টিউনিং শেষ হলে কারখানাটি আবার পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে ফিরবে। এর আগে প্রায় দুই মাস গ্যাস সংকটে বন্ধ থাকার পর গত ১ মে কাফকোতে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। প্রস্তুতি শেষে ২ মে বিকেল থেকে উৎপাদন শুরু করে কারখানাটি। তখন দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন হচ্ছিল।

বর্তমানে কাফকোর দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টন ইউরিয়া এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ টন অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৩২ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কাফকোর পাশেই রাষ্ট্রায়ত্ত চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) অবস্থাও নাজুক। গ্যাস সংকটের কারণে চলতি বছরের ৪ঠা মার্চ থেকে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। গত ২৫শে আগস্ট কারখানাটিতে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও উৎপাদনে ফিরতে পারেনি এটি।
আনোয়ারার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি সার কারখানাটিও দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদনের বাইরে। গত ১৮ই এপ্রিল কারখানায় মজুত থাকা অ্যামোনিয়া শেষ হয়ে গেলে প্রথম দফায় উৎপাদন বন্ধ হয়। পরে কাফকোতে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে সেখান থেকে অ্যামোনিয়া নিয়ে ৮ই মে আবার উৎপাদনে ফেরে ডিএপিএফসিএল। কিন্তু জর্ডান থেকে আমদানি করা ফসফরিক অ্যাসিডের সরবরাহে সংকট দেখা দেওয়ায় ২৮শে জুন সকাল থেকে আবার পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানান, ডিএপি উৎপাদনে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ টন ফসফরিক অ্যাসিড প্রয়োজন হয়। কারখানাটিতে সর্বোচ্চ প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক অ্যাসিড মজুত রাখা যায়। ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন চালুর সুযোগ নেই।

ডিএপিএফসিএল’র দু’টি ইউনিটে প্রতিদিন ৮০০ টন করে মোট ১ হাজার ৬০০ টন ডিএপি সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। চট্টগ্রামের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সার কারখানায় বারবার উৎপাদন বন্ধ থাকায় দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। গ্যাস সংকট, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং আমদানিনির্ভর কাঁচামালের ঘাটতির কারণে কারখানাগুলো দীর্ঘ সময় উৎপাদনের বাইরে থাকছে।