ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তথ্য গোপন করে পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত জমিকে ইউনিয়নের জমি দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৪ঠা জুন নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৩৩৭৯ নম্বর দলিলের মাধ্যমে নান্দাইল মৌজার ২১ শতক জমি বিক্রি করেন ইছহাক মাহমুদ ও মুজিবুর রহমান। জমিটি কিনে নেন আউয়াল হাসান ও নাজমুল হাসান নামের দুই ভাই। দলিলে বিক্রীত জমির মূল্য দেখানো হয় ৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। যদিও পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের জমির প্রকৃত মূল্য অনেক বেশি। পৌরসভা এলাকার জমি হওয়ায় এ নিবন্ধনে উৎসে কর আসার কথা ছিল ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের তালিকাভুক্ত দলিল লেখক আবু সাদেক জমির প্রকৃত অবস্থান গোপন করে ইউনিয়নের অধীন উল্লেখ করেন।
ইউনিয়ন পর্যায়ের কম কর হারের সুযোগ নিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয় মাত্র ১৭ হাজার ৯০০ টাকা। ফলে সরকারের ১ লাখ ৯২ হাজার ১০০ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়। এ বিষয়ে জমি বিক্রেতা ইছহাক মাহমুদ জমিটি পৌরসভার অধীন বলে স্বীকার করে বলেন, দলিল লেখক কীভাবে তা সম্পাদন করেছেন, তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। ক্রেতা নাজমুল হাসান জানান, দলিল লেখক আবু সাদেক পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সরকার নির্ধারিত হার হিসেবেই তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন; এর বাইরে তিনি আর কিছু জানেন না।
অভিযুক্ত দলিল লেখক আবু সাদেক বলেন, পুরাতন গেজেট দেখে কাজ করায় এমনটি হয়েছে। তবে দলিলটি সংশোধন করা যাবে। তৎকালীন সাব-রেজিস্ট্রার শেখ আবদুস সামাদ আজাদ জানান, দলিল লেখকদের ওপর বিশ্বাস রেখেই রেজিস্ট্রেশন করা হয়। ভুল হওয়া স্বাভাবিক, এতে দোষের কিছু নেই। রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি জেলা রেজিস্ট্রার দেখবেন। বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার কামরুজ্জামান জানান, বিশ্বাসভঙ্গের প্রমাণ মিললে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া বকেয়া রাজস্ব পরবর্তীতে আদায় করার সুযোগ রয়েছে।
