গাজীপুরে কেয়া গ্রুপের ৬১৩ শ্রমিক ছাঁটাই

ফন্ট সাইজ:

ব্যাংকিং জটিলতা ও গ্যাস সংকটসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে লে-অফে থাকা গাজীপুরের কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানের ৬১৩ শ্রমিককে ছাঁটাই করেছেন কর্তৃপক্ষ। ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের নামের তালিকা গত সোমবার সন্ধ্যায় কারখানার মূল ফটকে সাঁটিয়ে দেয়া হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকেই তালিকা দেখতে কারখানার ফটকে ভিড় করেন শ্রমিকরা। এ সময় তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা গেছে। মহানগরীর কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় অবস্থিত কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড কারখানা থেকে তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত জনবল থাকায় উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন সেকশন, বিভাগ ও ডিভিশন থেকে কিছু পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী ৮ই সেপ্টেম্বর থেকে অতিরিক্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের ছাঁটাই করা হচ্ছে। নোটিশে আরও বলা হয়, ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের আইনানুগ পাওনাদি পরিশোধ করা হবে।

ভবিষ্যতে কারখানায় নতুন কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হলে শ্রম আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই হওয়া দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনরায় নিয়োগ দেয়া হবে। এদিকে, চাকরি বহাল থাকা শ্রমিক-কর্মচারীরা লে-অফ নোটিশের আওতায় থাকবেন এবং আইন অনুযায়ী লে-অফ সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে শ্রম আইন অনুযায়ী সকল পাওনাদি পরিশোধ করা হবে। গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, কেয়া গ্রুপ কর্তৃপক্ষ কিছু শ্রমিক ছাঁটাইয়ের নোটিশ দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানার মূল ফটকে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি জিএমপি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।