যশোরের চৌগাছায় ছয়টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের কার্যক্রম কাগজে-কলমে সচল দেখিয়ে এমপিওভুক্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করা হলেও সরজমিন তদন্তে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব বা নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমের সত্যতা পাওয়া যায়নি। দু’-একটি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো থাকলেও নেই প্রত্যাশিত শিক্ষার্থী ও নিয়মিত পাঠদান। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় পরিচালিত সামপ্রতিক তদন্তে এ চিত্র উঠে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ‘রান ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি’ নামের একটি এনজিও’র মাধ্যমে ছয়টি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে ১২ থেকে ২৮ জন পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়। অনিয়মের অভিযোগের পর ২০১৯ সালে বিদ্যালয়গুলো সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়।
তদন্তে পাশাপোলের শহীদ মতিউর রহমান অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী স্কুলে ২৪ জন, সরূপদাহের নাসির উদ্দীন অটিস্টিক স্কুলে ২২ জন, হাকিমপুরের সরূপপুর অটিস্টিক প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ১২ জন এবং পৌর শহরের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ২৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের তথ্য পাওয়া যায়। সুখপুকুরিয়ার নগরবর্ণি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের কোনো দৃশ্যমান অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ধূলিয়ানীর বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রধান শিক্ষকও নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ৬টি বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের নামে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
পাশাপোলের বিদ্যালয়টির ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা ওবাইদুল ইসলাম সবুজের বিরুদ্ধে। যদিও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নাসির উদ্দীন অটিস্টিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাসুদুর রহমান বলেন, আপাতত স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নগরবর্ণি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফুজ্জামান সাগরও কার্যক্রম বন্ধ থাকার কথা জানান। চৌগাছা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম বজলুর রশিদ বলেন, তদন্তে গিয়ে অধিকাংশ বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব বা কার্যক্রমের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, তদন্তের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনের নামে অনিয়ম বা অর্থ বাণিজ্য হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।
