তিতাস-বুড়ি নদীর অস্তিত্ব নিয়ে উদ্বেগ

তিতাস-বুড়ি নদীর অস্তিত্ব নিয়ে উদ্বেগ

ফন্ট সাইজ:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আইন উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় তিতাস ও বুড়ি নদীর সরকারি জায়গা দখল ও ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। নদী খননে কোটি টাকা ব্যয় হলেও অবৈধ দখল ও ভরাট বন্ধ না হওয়ায় নদী দু’টির অস্তিত্ব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে নবীনগর পূর্ব ইউনিয়নের বগডহর মৌজায় তিতাস ও বুড়ি নদীর জায়গা নিজের দাবি করে বালু ভরাট করে আসছেন ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। সমপ্রতি নবীনগর পৌর এলাকার লঞ্চঘাটের পূর্ব পাশে রাতের আঁধারে ড্রেজার বসিয়ে তিতাস নদীর একটি অংশ ভরাটের কাজ শুরু করা হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদপত্রে প্রকাশিত হলে গত রোববার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলাম। অবৈধভাবে বালু ভরাটের দায়ে ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

একই সঙ্গে ১৫ দিনের মধ্যে নিজ খরচে নদীতে ফেলা বালু অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়। নবীনগর সদর ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১০৯৮ খতিয়ানভুক্ত ২৫৯০ এসএ দাগের জায়গাটি সরকারি সম্পত্তি। অভিযুক্তের নামে ওই জমির কোনো নামজারি বা খারিজ খতিয়ান নেই বলেও সূত্রটি জানিয়েছে। ২০২০ সালে নবীনগর থেকে কসবার কুটি বাজার পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার নৌপথ খননে ‘ক্যাপিটাল ড্রেজিং’ প্রকল্পে ২৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয় করা হলেও নদীর নাব্যতা রক্ষায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন তরী বাংলাদেশ’-এর আহ্বায়ক শামীম আহমেদ বলেন, নদী দখল ও ভরাট অব্যাহত থাকলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। ইউএনও রাকিবুল ইসলাম জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তিতাস ও বুড়ি নদীর প্রকৃত সীমানা নির্ধারণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।