ইউপি নির্বাচন

কিশোরগঞ্জে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া

ফন্ট সাইজ:

সারা দেশের মতো কিশোরগঞ্জেও বইছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের হাওয়া। বিশেষ করে ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে এখন সীমাহীন তোড়জোড়। জেলা জুড়েই চলছে নির্বাচনী জল্পনা-কল্পনা। সরকারি দল বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থীরা ছুটছেন এলাকার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা থেকে কেন্দ্রের নেতাদের কাছে। দলীয় মনোনয়ন পেতে শুরু করেছেন লবিং। সমানে প্রচার চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও। এ ছাড়া পছন্দের মানুষকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চেয়ে ছবিসহ পোস্ট দিচ্ছেন শুভাকাঙ্ক্ষী-সমর্থকেরা। ফলে ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে এখন সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলার ১০৮টি ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীরা বেশ আগে থেকেই আটঘাট বেঁধে মাঠে নামছেন।

এক্ষেত্রে সরকারি দল বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে পিছিয়ে নেই জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরাও। এরই মধ্যে অনেক ইউপিতে দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ এবং অন্যান্য বেশ কয়েকটি দলের প্রার্থীরাও নির্বাচনী ময়দানে সরব রয়েছেন। এ ছাড়া অনেক ইউপিতে দলনিরপেক্ষ সম্ভাব্য প্রার্থীরা আগাম নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্বাচন ঘিরে তৎপর না হলেও বেশকিছু ইউনিয়নে দলটির কিছু নেতাকর্মী কৌশলে প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন। বিগত ২০২১ ও ২০২২ সালে ধাপে ধাপে জেলার ১০৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় প্রতীকের ওই নির্বাচনে বিএনপি দলগতভাবে অংশ না নিলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নেতাকর্মীরা অধিকাংশ ইউপিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তখন সরকারি দল হওয়ার সুবাদে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরাই বেশির ভাগ ইউপিতে নানা প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে জয় ছিনিয়ে নেন। এবারের ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলেও দলীয়ভাবে প্রার্থী দিবে রাজনৈতিক দলগুলো।

তাই ইউপিতে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে দলগুলো কাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারি দল বিএনপি’তে চলছে মনোনয়নযুদ্ধ। বিএনপি দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনে জয়ের আশায় দলীয় মনোনয়নের জন্য দলের দায়িত্বশীলদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও চলছে প্রার্থিতার আবেদন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিকটাত্মীয়, শুভানুধ্যায়ী ও অনুগত নেতাকর্মীরা প্রার্থিতার জন্য ফেসবুকে চালাচ্ছেন প্রচারণা। কেউ কেউ নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়েও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জানান দিচ্ছেন। এ ছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই দলীয় কর্মকাণ্ডসহ নানা তৎপরতার ছবি ফেসবুকে আপলোড দিচ্ছেন। এখন ফেসবুক খুললেই শুধু ভেসে উঠছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে মনোনয়ন চাওয়ার আবেদন। ফেসবুকে কার পোস্টে কতো বেশি শেয়ার লাইক কমেন্ট হচ্ছে, সে নিয়েও চলছে আলোচনা। ফেসবুকের পাতা যেন হয়ে উঠেছে বিএনপি’র দলীয় মনোনয়ন লড়াইয়ের আদর্শ মাঠ।