বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কেনাকাটায় অনিয়মের তদন্তে কমিটি গঠন: আবদুল্লাহ তাহের

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাবেক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) অডিট আপত্তি ও কেনাকাটায় জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ১০টি অডিট আপত্তি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। সংসদ সচিবালয় বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর সভাপতি, কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিচয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) রিপোর্ট নম্বর-৩৬/২০২৩-এর ওপর আলোচনা শুরু হয়। এই রিপোর্টে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্টের ১ থেকে ৮ নম্বর অনুচ্ছেদের অডিট আপত্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে অডিট আপত্তি সংশ্লিষ্ট অর্থ দ্রুত আদায়ের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এর বাইরে নিরীক্ষাকালীন সময়ে কেনাকাটায় দরপত্রের স্পেসিফিকেশন সঠিকভাবে বজায় রাখা হয়েছিল কি না, তা সরেজমিনে যাচাই করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সংসদীয় কমিটি। কমিটির সদস্য ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান, মো. ফজলে হুদা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নিয়ে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে স্পেসিফিকেশন যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া বৈঠকে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের রিপোর্টভুক্ত অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তিগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত ১০টি বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। এসব অডিট আপত্তির বিপরীতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জমা দেওয়া জবাব এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণক নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়। সিএজি কার্যালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে এবং দীর্ঘ পর্যালোচনার পর এই ১০টি অডিট আপত্তি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করার সিদ্ধান্ত নেয় স্থায়ী কমিটি।

বৈঠকে সংসদীয় কমিটির সদস্য মো. আমানউল্লাহ আমান, হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, এ, কে, এম ফজলুল হক মিলন, মো. হাফিজ ইব্রাহিম, এস কে আজিজুল বারী, মো. মনজুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ও মো. রুহুল আমিন অংশ নেন। উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশের মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।