বাংলাদেশে পাঠানো ভারতীয় নারীর স্বামীকে ২ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ আসাম সরকারকে

বাংলাদেশে পাঠানো ভারতীয় নারীর স্বামীকে ২ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ আসাম সরকারকে

ফন্ট সাইজ:

আসামের ভারতীয় এক নারীকে জোর করে কথিত বাংলাদেশি আখ্যায়িত করে ঠেলে পাঠানো হয়েছিল বাংলাদেশে। তা নিয়ে ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। আদালত তাকে ফিরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামীকে অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২ লাখ রুপি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন গৌহাটি হাইকোর্ট। মুমতাজ বেগম নামের ওই নারীকে বিদেশি ঘোষণা করে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ চলমান থাকা অবস্থাতেই তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন নিউজ১৮।

ওই নারীর স্বামী মুজাম্মেল হক। তিনি আদালতে হেবিয়াস করপাস আবেদন করেন। আবেদন শুনানির সময় বিচারপতি কল্যাণ রায় সুরানা ও বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খাউন্ডের বেঞ্চ ৩রা সেপ্টেম্বর ক্ষতিপূরণের ওই নির্দেশ দেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, মুজাম্মেল হকের স্ত্রী মুমতাজ বেগমকে ভারত থেকে বহিষ্কারের আগে তার স্বামী বা পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি। হিন্দুস্তান টাইমস বেঞ্চের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছে। তাতে আদালত বলেছেন, আটক ব্যক্তিকে (ওই নারীকে) আবেদনকারী (তার স্বামী) বা পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে কোনো তথ্য না দিয়ে ভারত থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাই অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিকার হিসেবে আদালত আসাম সরকারকে আবেদনকারীকে ২ লাখ রুপি অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিতে আগ্রহী।

ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের জন্য রাজ্য সরকারকে ৬০ দিন সময় দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মুজাম্মেল হক চাইলে দেওয়ানি আদালতে আরও ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন বলেও জানিয়েছে হাইকোর্ট। এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও মামলার কার্যক্রমে যুক্ত করেছে আদালত। বাংলাদেশে মুমতাজ বেগমের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়ার কথাও জানিয়েছে আদালত। ২০১৯ সালে নগাঁওয়ের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল মুমতাজ বেগমকে বিদেশি হিসেবে ঘোষণা করে। এর বিরুদ্ধে তিনি আদালতে চ্যালেঞ্জ করেন। তার দাবি ছিল, ১৯৭১ সালের আগের ভোটার তালিকায় তার দাদার নাম থাকার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথি রয়েছে।

এ বছরের এপ্রিলে গৌহাটি হাইকোর্ট ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের ওই আদেশ বাতিল করে মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠান। তবে ৩০শে মে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার পর মুমতাজকে আটক করা হয় এবং পরে মাতিয়া ডিটেনশন সেন্টারে নেয়া হয়। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টকে জানায়, তাকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ১৪ই জুন ‘বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে’।
আদালত উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট আদেশের বিষয়ে মুমতাজ বা তার পরিবারের কাউকে জানানো হয়নি। আদালত আদেশের কপি সরবরাহ না করা এবং তাকে বহিষ্কারের বিষয়টি পরিবারকে অবহিত না করাকে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করেন। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করতেও আসামের স্বরাষ্ট্র বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।