চিরাচরিত ধর্মীয় রীতিতে ফিরে আসতে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজা উদযাপনে বিজেপি সরকারের নানা বিধিনিষেধ

ফন্ট সাইজ:

চিরাচরিত ধর্মীয় রীতিতে ফিরে আসা, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং যান চলাচল ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে এ বছরের দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার একাধিক নতুন নিয়ম ও বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে। পূজা কমিটিগুলির সঙ্গে এক সমন্বয় সভায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশিকাগুলি চালু করেছেন।
বিজেপি সরকার পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে চালু অনেক উদ্যোগ এবং নীতি বাতিল ঘোষণা করেছে। কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত বার্ষিক দুর্গাপূজা কার্নিভাল উৎসবটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সরকার জানিয়েছে যে, বিজয়া দশমীর পরেও বেশ কিছুদিন প্রতিমা রেখে দেওয়াটা প্রচলিত বিসর্জন প্রথার লঙ্ঘন। এর পরিবর্তে উৎসবের সূচনা উপলক্ষে ইডেন গার্ডেন্সে একটি জমকালো মহালয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
পূর্ববর্তী সরকারের আমলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে মহালয়ার অনেক আগে থেকেই পুজোর উদ্বোধন করেন তা আর করা যাবে না। মহালয়ার (দেবীপক্ষের শুরু) আগে প্যান্ডেল ও প্রতিমা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা যাবে না বলে সরকার নির্দেশ জারি করেছে। বিসর্জনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, বিসর্জনের সময় ভারী ক্রেন ব্যবহার করে প্রতিমা উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
রাজ্যে এই প্রথমবার মহা অষ্টমীতে মদ বিক্রির উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই দিনে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে সমস্ত মদের দোকান, বার এবং রেস্তোরাঁ অবশ্যই বন্ধ থাকবে এবং মদ পরিবেশন করা যাবে না।
সেইসঙ্গে জনসাধারণের অসুবিধা বিবেচনা করে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য দুর্গাপূজার পাঁচ দিন এবং প্রতিমা বিসর্জন শোভাযাত্রার সময় ডিজে (ডিস্ক জকি) এবং উচ্চস্বরের সঙ্গীত বাজানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পুজো আয়োজকদের জাতীয় মহাসড়ক বা শহরের প্রধান সড়ক পূজা-সংক্রান্ত যেকোনো স্থাপনা থেকে মুক্ত রাখতে হবে।
রাজ্য সরকার পূজা কমিটিগুলিকে ১ লক্ষ রুপি পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে। সেইসঙ্গে বিদ্যুৎ ও অগ্নি সুরক্ষার খরচ মুকুব করা হয়েছে।
পুজো প্যান্ডেলের আশেপাশে আমিষ খাবারের ব্যাপারে সরকার কোনও পরামর্শ দেয়নি। অবশ্য সনাতনপন্থী বিশ্ব হিন্দু পরিষদ আয়োজকদের প্যান্ডেলের মূল সীমানার বাইরে আমিষ খাবারের স্টল রাখার পরামর্শ দিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে। পরিষদ প্রতিমা তৈরির কারিগরদের সাবেকি ধাঁচের প্রতিমা গড়ার পরামর্শ দিয়েছে।