প্রাথমিকের শিক্ষক বদলি আপাতত স্থগিত

ফন্ট সাইজ:

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। যোগদানের অপেক্ষায় থাকা ১৪ হাজার শিক্ষকের পদায়নের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সোমবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই তথ্য জানিয়েছেন। সোমবার ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস’ উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৪ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগ হবে, তার জন্য সব বদলি এখন স্থগিত। ১৪ হাজারের ফিক্সড হয়ে গেলে নতুন করে আবার চালু হবে। তখন এটা নেয়া যাবে। নতুন শিক্ষকদের নিয়োগের পর আবার বদলি চালু হবে।

তিনি আরও বলেন, উপবৃত্তিসহ সব বিষয়ের দিকে আমরা নজর রাখছি এবং সেই আঙ্গিকে আমরা কাজ করবো। তবে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ফিডব্যাক পাই যে, এটা আরও নিড বেসড মানে ফাইন্যান্সিয়াল নিড বেসড হলে সবচেয়ে বেশি ভালো হয়। তখন আগামী দিনগুলোতে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে, যেন এটা ফাইন্যান্সিয়াল নিড বেসিসের উপরে হয় এবং সংখ্যাটা আরও বাড়ে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশু-কিশোরদের শিক্ষার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন দর্শনে শিক্ষা ও কর্মদক্ষতার সমন্বয়, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাক্ষরতা বিস্তারে গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী দেশে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৮.৯৮ শতাংশ। এই অগ্রগতি আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক।

তবে একই সঙ্গে এটিও সত্য যে, এখনো একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগের বাইরে রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয়বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশু-কিশোর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং শিক্ষা থেকে বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ। তাদের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেয়া আমাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব এবং উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রধান শর্ত। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের শিক্ষা-দর্শনের মূলকথা হলো—মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন। একটি দেশকে প্রকৃত অর্থে এগিয়ে নিতে হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন জ্ঞান, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও কর্মক্ষমতায় সমৃদ্ধ নাগরিক।