আমিনবাজারে পুলিশের এসআইকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৯

ফন্ট সাইজ:

সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলতাব হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। রোববার রাতে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে র‌্যাব-১০ চারজনকে এবং আমিনবাজার থেকে র‌্যাব-৪ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে। র‌্যাবের দাবি, অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ হামলার সূত্রপাত। সেখানে পুলিশ সদস্য আলতাব হোসেন হামলাকারীদের ‘টার্গেট’ ছিলেন না। একজন বৃদ্ধ মানুষকে যখন আঘাত করা হচ্ছিল, তখন আলতাব হোসেন তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন।

সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তারকৃতরা হলো— আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ ও ইমরান। আমিনবাজার থেকে গ্রেপ্তারকৃতরা হলো— নূর মোহাম্মদ রুদ্র, রাকিব মিয়া, ছাব্বির আহম্মেদ ও ওয়াসিম। র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বলেন, শনিবার রাতে একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে গ্যারেজের মালিককে মারধর করা হচ্ছিল। এ সময় এসআই আলতাব হোসেন প্রতিবাদ করেন। প্রাইভেট কারে থাকা পাঁচজন গ্যারেজ মালিকের ওপর হামলা করলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এ সময় গ্যারেজের মালিককে মারধরকারীদের সঙ্গে আলতাব ও তার ছেলে আরিফুলের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আলতাব নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এতে হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, প্রাণ বাঁচাতে আলতাব হোসেন দৌড়ে তার ছেলের পোশাক কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। দেশে তৈরি অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে আলতাব ও তার ছেলে আরিফুলকে মারধর করে। এসময় কারখানার মেশিন ও আসবাবও ভাঙচুর করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ঘটনার পর মূল হোতা প্রাইভেট কারচালক জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। চারজনকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হই এবং চারজনকেই বিভিন্নভাবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তাদের প্রাথমিক সম্পৃক্ততা আমরা পেয়েছি। পাশাপাশি র‌্যাব-৪ আরও চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। এ নিয়ে এজাহারভুক্ত ১৫ আসামির মধ্যে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। হামলাকারীদের বেশির ভাগই কিশোর গ্যাং এবং মাদকসংক্রান্ত বিষয়ে জড়িত বলে জানান তিনি।

এই র‌্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আপন ও জিহাদ অত্যন্ত অপরাধপ্রবণ। তারা ওই এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেয় এবং মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। র‌্যাবের ভাষ্য, আলতাব হোসেনের ওপর আঘাত করে আলাউদ্দিন। জিহাদ চাকু দিয়ে তাকে আঘাত করে জখম করে। আপনকে ওই এলাকার গ্যাংয়ের মূল হোতা বলা যায়। তার বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি এসএস পাইপ দিয়ে আলতাব হোসেনের মাথায় আঘাত করে। ইমরানও গণপিটুনিতে অংশ নেয়।